ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

রাজশাহীর আমের হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত: কোল্ড চেইন উন্নয়নের পরামর্শ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:১৫ পিএম

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে তিনি এই বিখ্যাত হাটে এসে পৌঁছান এবং বিভিন্ন আমের আড়ত ও পাইকারি দোকান ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান ও পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ড সহ মার্কিন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাটে কেনাবেচা হওয়া ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতসহ বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি হাটের সাধারণ ব্যবসায়ী, আড়তদার ও স্থানীয় আম চাষিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। সেই সাথে হাটে বসেই তিনি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কয়েকটি জাতের সুস্বাদু আমের স্বাদ গ্রহণ করেন।

বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি কূটনীতিকের এমন আকস্মিক সফরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এর ফলে রাজশাহীর সুস্বাদু আম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় পরিসরে পরিচিতি পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় আম কৃষকরা বলেন, রাজশাহীর আমের গুণগত মান ও অনন্য স্বাদ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বিদেশি কূটনীতিকরা এভাবে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে আসলে দেশের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং তা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আমের হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘রাজশাহীতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি আমার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। এর আগে ২০২০ সালে আমি একবার এই অঞ্চলে এসেছিলাম। তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে আসার মূল কারণ হলো আমি রাজশাহীর বিখ্যাত আমের আসল স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। আমি এখানে আসতে পেরে সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত। আমি নিজে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছি। ফলে কৃষিপণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সরাসরি সেখানে যাওয়ার মতো সেরা অভিজ্ঞতা আর দ্বিতীয়টি নেই। কারণ সেখানে সবচেয়ে তাজা, সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং সেরা জিনিসটি স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়, যার কোনো তুলনা হয় না।’

আমের আন্তর্জাতিক বাজারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানরা আম খেতে খুব পছন্দ করে। যদিও আমরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে সেগুলো হিমায়িত অবস্থায় বা প্রসেসড ফর্মে পাই এবং বিভিন্ন ধরনের শেক তৈরিতে ব্যবহার করি। যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া গেলেও আমার মনে হয় না সেখানে রাজশাহীর হাটের মতো এত তাজা এবং সুস্বাদু আম পাওয়া সম্ভব।’

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশের কৃষি খাতে আরও বেশি কোল্ড চেইন বা উন্নত হিমাগার ব্যবস্থার প্রয়োজন। কারণ সারা বছর আমের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এবং দূরবর্তী দেশগুলোতে তাজা আম পাঠাতে হিমায়িত আম রপ্তানির কোনো বিকল্প নেই। তাই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে এবং বছরজুড়ে আমের উন্নত উৎপাদন ও নিরাপদ রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন প্রয়োজন।’


এ সম্পর্কিত আরো খবর