মিজানুর রহমান বাদল, মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর আপত্তিকর আচরণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দুই শিক্ষার্থীকে টিসি প্রদান এবং মুচলেকা নেওয়ার মাধ্যমে ঘটনাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় ১০ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ও ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের ভবনের নিচতলার একটি শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করে। পরে ওই কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে তাদের আপত্তিকর আচরণের বিষয়টি ধরা পড়ে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি প্রথমে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে বিষয়টি প্রকাশ পেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে পাঠায়। সূত্রমতে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং তাদের টিসি দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বলা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি থানা-পুলিশে না জানিয়ে অভিভাবকদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই শিক্ষার্থীর আপত্তিকর কথাবার্তার বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্ত না করে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি খায়রুন্নাহার বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাকে জানিয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাটি খুব বেশি গুরুতর মনে না হওয়ায় দুই পরিবারের অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নৈতিক শিক্ষা এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আচরণগত বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ এবং কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও, অনেকে বিষয়টি আরও স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।