ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মার্কিন-ইরান চুক্তিতে বিশ্ববাজারে তেলের বড় পতন, চাঙ্গা শেয়ারবাজার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:১৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর হুমকির কারণে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির ধারা তৈরি হয়েছিল, তা এই চুক্তির ফলে বাধাগ্রস্ত ও শান্ত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে বলে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ সকালে এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী আজ সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ফিউচারের বাজারমূল্য ব্যারেল প্রতি ৭৮ দশমিক ০৭ ডলারে নেমে এসেছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার আগের সময়ের তুলনায় বর্তমান বাজারে তেলের দাম এখনও প্রায় ৭ শতাংশ বেশি রয়েছে।

টানা কয়েকদিন তেলের দাম ক্রমান্বয়ে কমার পর গতকাল বুধবার হঠাৎ করেই বাজারে ব্রেন্ট অয়েলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গিয়েছিল এবং এদিন ব্যারেলপ্রতি দাম ৮১ ডলার ছাড়িয়ে যায়। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চরম হুমকির পরেই বিশ্ব বাজারে এই তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ইরান যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সঠিক আচরণ না করে তবে তিনি দেশটিতে আবারও ভয়াবহ বোমা হামলার নির্দেশ দেবেন। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বড় বড় শেয়ারবাজারগুলোও ব্যাপকভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এশিয়ার বাজারে জাপানের প্রধান সূচক 'নিকেই ২২৫' এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক 'কসপি' উভয়ই তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে এ দুটি সূচক যথাক্রমে ২ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে তাইওয়ানের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক 'তায়েক্স'-ও এক দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন স্টক ফিউচারেও আজ বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে, যেখানে আমেরিকার বিখ্যাত সূচক 'এসএন্ডপি ৫০০' এবং প্রযুক্তি-নির্ভর 'নাসডাক কম্পোজিট' উভয় বাজারের সূচক যথাক্রমে প্রায় ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত ইতিবাচকভাবে বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত প্রথম ধাপ হিসেবে ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে বিশ্বজুড়ে এই অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। শিল্পোন্নত ৭ দেশের আন্তর্জাতিক জোট জি৭ সামিটের বিশেষ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। গতকাল বুধবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত ভার্সাইলিস প্রাসাদে বিশ্বনেতাদের ঐতিহাসিক নৈশভোজের ঠিক আগে তিনি এই বিশেষ চুক্তিপত্রে নিজের চূড়ান্ত স্বাক্ষর প্রদান করেন এবং এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সশরীরে তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরানে নিজ সরকারি দপ্তরে বসে এই চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন ও স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম 'ইরনা' ইতিমধ্যেই তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের সেই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ছবিও বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর