বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে এবং এভাবে দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ৪৭, ৫২, ৭১ এবং ২৪-এ যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বিভিন্ন সময় আমাদেরকে স্বাধীনতা, মুক্তি এবং শান্তির সুবাতাস দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। ২৪ যদি না হতো, ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যারা এই সমস্ত শহীদ পরিবার ও আহত পঙ্গু ভাই-বোনদের প্রতি অবজ্ঞা বা উপহাস করেন, তবে এটি নিজের সাথেই গাদ্দারি করার শামিল হবে। বিগত নির্বাচনে নানা জালিয়াতি ও সন্ত্রাস উপেক্ষা করে ১১ দলীয় ঐক্যকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীকে অভিনন্দন জানান।
জামায়াতের আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর দেশ স্বৈরশাসনের কবলে থাকার পর একটি নির্বাচন হয়েছে যেখানে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে সারাদেশে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কার পক্ষে আওয়াজ উঠেছিল। সেদিন সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে গণভোটও হয়েছিল। সেই গণভোটে ৬৬ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও বর্তমান সরকার সেই জনরায়কে এখন অস্বীকার করছে। এটি জনগণের সাথে সরাসরি প্রতারণা।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদেরকে সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত অনুগত কর্মীদেরকে ভিসি হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিহাস ভুলে গেলে হবে না, শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন, কিন্তু তিনিও সাড়ে তিন বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে এই বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ আর তার দোসররা ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথ কি আপনারা আটকাবেন? সরকার গঠন করার আগে এবং পরে আপনারা তো চাঁদাবাজদের হাত আটকাইতে পারেন নাই। দুর্নীতি বন্ধ হয় নাই, বরং দুর্নীতির মিটার আগের থেকে আরও বেড়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময়ের শিল্পের রাজধানী নারায়ণগঞ্জ মাঝখানে সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়েছে। ত্বকী হত্যার বিচার আজ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জবাসী পায়নি। অনতিবিলম্বে অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দিয়ে এখানে সিটি নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।