চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ডের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই দিনে ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পেলেন চলতি আসরের ‘দ্রুততম’ দুটি চমৎকার গোল। তবে রেকর্ডের এই শীর্ষস্থানে বেশিক্ষণ নিজের নাম ধরে রাখতে পারলেন না মরক্কোর তারকা ফুটবলার ইসমায়েল সাইবারি। আজ স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে ম্যাচের ঠিক ৭১ সেকেন্ডের মাথায় এক অনবদ্য গোল করে এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন সাইবারি। কিন্তু মরক্কোর এই ফুটবলারের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ফুটবল নিয়তি। একই দিনের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে মাঠে নেমেই প্যারাগুয়ের স্ট্রাইকার মাতিয়াস গালারজা গোল করে বসেন মাত্র ৬৫ সেকেন্ডে। ফলে ইসমায়েল সাইবারিকে সিংহাসন থেকে হটিয়ে চলতি ২০২৬ আসরের দ্রুততম গোলের তালিকার সবার ওপরে এখন শোভা পাচ্ছে প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজার নাম।
চলতি আসরের এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও, বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাঁটলে কিছুটা হতাশই হতে হবে প্যারাগুয়ের এই তারকাকে। কারণ, ফুটবল বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসের সর্বকালের দ্রুততম ১০টি গোলের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিতে পারেননি মাতিয়াস গালারজা। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বকালের দ্রুততম গোলের অক্ষুণ্ণ রেকর্ডটি এককভাবে তুরস্কের কিংবদন্তি ফুটবলার হাকান সুকুরের দখলে রয়েছে। আজ থেকে দুই যুগেরও বেশি সময় আগে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিক অফের বাঁশি বাজার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে এই অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনা করেছিলেন তিনি। হাকান সুকুরের করা সেই মহাকীর্তি আজ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের কোনো স্ট্রাইকার ভাঙতে পারেননি।
অন্যদিকে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম ১০টি গোলের তালিকার একদম শেষে তথা দশম স্থানে যে খেলোয়াড়ের নামটি রয়েছে, সেটি হলো ডেনমার্কের মাথিয়াস জর্গেনসেনের। বিগত ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের কিক অফ বাঁশি বাজার ঠিক ৫৫ সেকেন্ডের মাথায় গোলটি করেছিলেন তিনি। সেই হিসেবে প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজার ৬৫ সেকেন্ডের গোলটি চলতি আসরের জন্য দ্রুততম হলেও সর্বকালের সেরা ১০-এ ঢুকতে আরও অন্তত ১০ সেকেন্ড কম সময়ের প্রয়োজন ছিল। এক দিনে দুই দুটি দ্রুততম গোল দেখার পর ফুটবল দুনিয়ায় এখন পুরোনো সব রেকর্ডের খতিয়ান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবলাররা ম্যাচের শুরুতেই প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে কতটা মরিয়া থাকেন, এই গোলগুলো তারই বড় প্রমাণ। মাতিয়াস গালারজা এবং ইসমায়েল সাইবারির এই দ্রুততম গোলের কৃতিত্ব ফুটবলপ্রেমীদের অনেক দিন মনে থাকবে, তবে হাকান সুকুরের সেই ঐতিহাসিক ১১ সেকেন্ডের জাদুকরী রেকর্ডটি এখনো ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ চূড়ায় এক অনন্য গৌরব নিয়ে টিকে রয়েছে।