ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

১৮ ঘণ্টার নাটকীয় অভিযানে বাথরুমের ফলস সিলিং থেকে গ্রেফতার ববির কথিত স্বামী


  • আপলোড সময় : শনিবার ২০ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:০১ পিএম

বিনোদন প্রতিবেদক:

রাজধানীর গুলশানে প্রায় ১৮ ঘণ্টাব্যাপী নাটকীয় অভিযানের পর চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির কথিত স্বামী ও ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচিত প্রযোজক মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে গুলশানের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানোর পর শেষ পর্যন্ত বাসার বাথরুমের ফলস সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা মির্জা আবুল বাশার মামুনের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে একটি মামলার বাদীকে সঙ্গে নিয়ে গুলশানের ওই বাসায় প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে গুলশান থানা পুলিশ।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গুলশান থানার ওসি (অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান জানান, বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। তবে প্রথমদিকে বাসার প্রতিটি কক্ষ, বারান্দা, স্টোররুম এবং অন্যান্য স্থান তল্লাশি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে পুলিশের সদস্যদের সন্দেহ হয় বাথরুমের ফলস সিলিং নিয়ে। সেখানে তল্লাশি চালানো হলে সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মির্জা আবুল বাশার মামুনকে পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়, গাড়ি ভাড়া নিয়ে আত্মসাৎ এবং কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সর্বশেষ কোন মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও গত বছরের অক্টোবর মাসে একই ধরনের প্রতারণার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাথরুমের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। অনেকেই অভিযানের নাটকীয়তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ প্রতারণার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মির্জা আবুল বাশার মামুনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং অভিযোগের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর