সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইদহ এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বাঁশের সাঁকোটি অবশেষে সংস্কার করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। পরে স্থানীয় উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সাঁকোটির সংস্কার সম্পন্ন হলে আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইদহ, লক্ষ্মীকোলা, খোকশাহাট, পাইকোরা এবং আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে করতোয়া নদী পারাপারের জন্য এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। এলাকায় স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় কয়েক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থ ও শ্রমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বাঁশ পচে যাওয়ায় এবং খুঁটি দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হতো সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী, রোগী ও কৃষকদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ত। অনেক সময় মানুষ পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবুও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই সাঁকো ব্যবহার করতে হতো।
এ অবস্থায় গত এপ্রিল মাসে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর অবস্থা এবং একটি স্থায়ী সেতুর দাবির বিষয়টি সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবী ও সচেতন মহলের নজরে এলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তরিকুল ইসলাম নিজস্ব অর্থায়ন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন বাঁশ সংযোজন, ভাঙা খুঁটি মেরামত, চলাচলের পথ শক্তিশালীকরণসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেন। স্বেচ্ছাসেবক, তরুণ সমাজ ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে অল্প সময়ের মধ্যেই সাঁকোটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।
সংস্কারের পর বর্তমানে প্রতিদিন শত শত মানুষ নিরাপদে সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করতে পারছেন নির্বিঘ্নে। কৃষকরা সহজে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছেন। রোগীদেরও চিকিৎসার জন্য দ্রুত উপজেলা ও জেলা শহরে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করা হলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংবাদ প্রকাশের পর অন্তত সাঁকোটি সংস্কার হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে এটি সাময়িক সমাধান। বর্ষার প্রবল স্রোতে বাঁশের সাঁকো আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা দ্রুত করতোয়া নদীর ওপর একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সংস্কারকাজের উদ্যোক্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সবার সামনে উঠে আসে। এরপর স্থানীয়দের নিয়ে দ্রুত সাঁকোটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে এটি করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে করতোয়া নদীর ওপর দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
এলাকাবাসীর মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়বে না, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, শিক্ষার্থীদের সময় ও ঝুঁকি কমবে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাও সহজ হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত করতোয়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাহলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।
আাকশজমিন / আরআর