ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ভরিলহাট নেছারদিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার কম্পিউটার শিক্ষক মো. আমির হোসেন একটি ক্লাসরুমের ভেতরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হয়রানি করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। এরপর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরদিন সকালে উত্তেজিত জনতা ও অভিভাবকরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা শিক্ষক মো. আমির হোসেনকে মাদ্রাসার লাইব্রেরি কক্ষে আটকে রেখে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তিনি সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
এ ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয়দের শান্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আমির হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার এস.এম নিজাম উদ্দিন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।