ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রাফাত হত্যার বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:৩৫ পিএম

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কমলাপুরে পোল্ট্রি ফার্ম কর্মচারী রাফাতের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে নিহত রাফাতের পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলও বের করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত রাফাতের মা শাহানারা বেগম, চাচা আব্দুল লতিফ, রুহুল কুদ্দুস, রফিকুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, আইনুল ইসলাম, নুর নাহার, শাইদা খাতুন, সুফিয়া খাতুন, ফরিদা খাতুনশরিফা খাতুনসহ অনেকে।

বক্তারা জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শফিকুল সরদারের ছেলে রাফাত (১৯) আশাশুনি উপজেলার শীতলপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামানের মালিকানাধীন কমলাপুর এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্মে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ জুন রাতে তিনি ফার্মে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, রাফাত আত্মহত্যা করেছেন।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফার্মের একটি রডের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে পরিবারের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মরদেহে রক্তের দাগ ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অণ্ডকোষে রক্তক্ষরণের বিষয়টি তারা তুলে ধরে বলেন, এটি আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং হত্যার আলামত।

মানববন্ধনে নিহতের মা শাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ এখনো হত্যা মামলা গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে। এতে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে মামলা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একজন তরুণ শ্রমজীবী কর্মচারীর রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত না হলে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হবে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।

কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা “বিচার চাই, বিচার চাই” স্লোগান দিয়ে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর