স্পোর্টস ডেস্ক:
স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত দাপটে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রেখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আমেরিকার মায়ামিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে সেলেসাওরা। এই দাপুটে জয়ের পর দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ও ছন্দ নিয়ে পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছে ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমারের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘টিভি গ্লোবো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানান, দলের মূল লক্ষ্যই ছিল আগের ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রেখে আরও গোছানো ফুটবল খেলা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল শুধু কাঙ্ক্ষিত জয়ই পায়নি, বরং মাঠজুড়ে ছিল চেনা সাম্বা ছন্দ, নিয়ন্ত্রণ এবং কোচের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন। আনচেলত্তির মতে, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচে দল অনেক বেশি পরিণত ও গোছানো ফুটবল উপহার দিয়েছে। আক্রমণভাগ তৈরি করা থেকে শুরু করে বলের দখল ধরে রাখা—সব ক্ষেত্রেই ফুটবলাররা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল দীর্ঘ চোট ও কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পেরিয়ে নেইমারের জাতীয় দলে ফিরে আসা। নেইমারকে বরণ করে নিতে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো ব্রাজিল শিবির। কোচ আনচেলত্তি মনে করেন, নেইমারের মাঠে থাকা মানে কেবল একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং তা পুরো দলের মানসিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কোচের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের বাকি অংশে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দলের আক্রমণভাগকে আরও বৈচিত্র্যময়, ধারালো ও কার্যকর করে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
খেলোয়াড়দের দলগত সমন্বয় ও রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তরের প্রশংসা করে আনচেলত্তি বলেন, দলের এই আক্রমণাত্মক মানসিকতাই তাঁদের শিরোপার রেসে এগিয়ে রাখবে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে তারা। একই গ্রুপ থেকে রানার্স-আপ হয়ে নকআউটে উঠেছে মরক্কো। নেইমারের ফেরা এবং দলের তুঙ্গস্পর্শী আত্মবিশ্বাস সব মিলিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ বা ‘হেক্সা’ জয়ের লড়াইয়ে ব্রাজিল এখন আরও ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ।