দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় ২৪ জুন এক মিনিটের কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ধাক্কার রেশ না কাটতেই দ্বিতীয় বড় ভূ-কম্পন সাধারণ মানুষের আতঙ্ক বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশটিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে কারাবোবো রাজ্যে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, প্রথম ভূমিকম্পের ৩৯ সেকেন্ড পরই ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা যেমন—লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফালকোন রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর আশঙ্কা, এই জোড়া ভূমিকম্পের প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। সংস্থাটি বলছে, প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনশীল না হওয়ায় বহু পুরনো ভবন ধসে পড়েছে। এতে বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির সরকার পুরো এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। রাজধানী কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বড় একটি অঞ্চল। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধসে পড়া ভবনের ভেতর থেকে মানুষদের জীবিত উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বর্তমানে পুরো ভেনেজুয়েলা এক অনিশ্চিত ও শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা বিরামহীন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে আফটারশকের ভয়ে সাধারণ মানুষ এখনো আতঙ্কে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।