বিশ্বকাপে দুর্দান্ত এক প্রদর্শনী উপহার দিল আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে ইরাককে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। ম্যাচের শুরুতেই ইরাক ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় পুরো ম্যাচে সেনেগালের আক্রমণ সামাল দিতে কার্যত ব্যর্থ হয় মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা। এই জয়ের ফলে গোল ব্যবধানে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে শেষ ৩২-এ ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল সেনেগাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। মাত্র ৪ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় আফ্রিকার দলটি। ইরাকের রক্ষণভাগকে ভেঙে হাবিব দিয়ারা বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। শুরুতেই গোল হজম করার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে ইরাক।
১৩ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইরাকের ডিফেন্ডার রেবিন সুলাকা। ফলে ম্যাচের বাকি দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় তাদের। সংখ্যাগত এই সুবিধাকে পুরোপুরি কাজে লাগায় সেনেগাল। প্রথমার্ধেই একাধিক আক্রমণ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ব্যবধান আর বাড়েনি।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেনেগাল। ৫৬ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার। নিজেদের অর্ধে ইরাকের মিডফিল্ডার জিদান ইকবালের ভুল থেকে বল কেড়ে নেন লামিন কামারা। এরপর নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকা সারকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সার।
এর মাত্র তিন মিনিট পর, ৫৯ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন পাপে গেয়ে। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই গোল পেয়ে যান এই মিডফিল্ডার। এরপরও থেমে থাকেননি তিনি। ৭১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোল করে ইরাকের বিপক্ষে সেনেগালের আধিপত্য আরও স্পষ্ট করে তোলেন।
ম্যাচের শেষ দিকে ইরাকের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেন ইলিমান এনদিয়ায়ে। ৮২ মিনিটে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে তিনি সেনেগালের পঞ্চম গোলটি করেন। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ১০ জনের ইরাক কোনোভাবেই সেনেগালের ধারাবাহিক আক্রমণের জবাব দিতে পারেনি।
পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। শুরুতে প্রতিপক্ষের লাল কার্ড তাদের কাজ আরও সহজ করে দেয়। সেই সুযোগকে শতভাগ কাজে লাগিয়ে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ফলে গ্রুপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে সেনেগাল। একই সঙ্গে উন্নত গোল ব্যবধানের সুবাদে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনাও অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। অন্যদিকে বড় এই পরাজয়ে ইরাকের নকআউটে ওঠার আশা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।