মারাত্মক সংক্রামক ইবোলা ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী বিস্তার রোধে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তিনটি দেশের নাগরিকদের ওপর সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। একই সাথে ওই রাষ্ট্রগুলো থেকে আসা সাধারণ ও বাণিজ্যিক সব ধরনের পর্যটকদের ভিসা প্রদান এবং সৌদিতে সরাসরি প্রবেশাধিকার স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান থেকে অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে (ভায়া) আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও এই নতুন নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর হবে। এমনকি সৌদিতে প্রবেশের ঠিক আগের ২১ দিনের মধ্যে যে কোনো ব্যক্তি যদি এই তিনটি দেশের কোনো একটিতে অবস্থান বা ভ্রমণ করে থাকেন, তবে তিনিও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন না। দেশটির পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। এই লক্ষ্যে স্থানীয় ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সাথে নিখুঁত সমন্বয় করে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য নজরদারি ও মহামারি মোকাবিলা বিভাগ ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এছাড়া যেসব দেশ ইবোলার প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়েছে, তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্যও বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা দ্বিগুণ জোরদার করেছে রিয়াদ। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি প্রবেশপথে আধুনিক থার্মাল স্ক্রিনিং, দ্রুত রোগ নজরদারি এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত সাড়াদান-প্রক্রিয়া আরও উন্নত করা হয়েছে। তবে ওয়াকায়া আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, সৌদি আরবের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির কোথাও কোনো ইবোলা-সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা রোগী শনাক্ত হয়নি। রিয়াদের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর তাদের একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিক কড়া নজর রাখছে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গ্রহণ করতে তারা দ্বিধা করবে না।