ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জনপ্রতিনিধিসহ দুইজনকে শোকজ

মাগুরায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর জমানো লাখ টাকা উধাও


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬ সময় : ১০:৫৩ এএম

মাগুরার মহম্মদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক অসহায় নারীর নিজের থাকার ঘরের দরজা লাগানোর জন্য মানুষের কাছ থেকে চেয়ে জমানো প্রায় ১ লাখ টাকা উধাও হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সরকারি ভবনের একটি খোলা ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই নারী নিজ ইচ্ছায় টাকাগুলো উপজেলা পরিষদে জমা দিলেও পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সেই অর্থ তাঁর হাতে পৌঁছায়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অসহায় খুরশিদা বেগমের কষ্টার্জিত এই অর্থ আত্মসাৎ ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং একজন সরকারি কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুরের প্রয়াত আব্দুর রশিদের কন্যা খুরশিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর একমাত্র পুত্রসন্তানকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারী দিনের বেশিরভাগ সময় পথে-প্রান্তরে ঘুরে কাটালেও রাত হলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বেছে নেন উপজেলা পরিষদের বারান্দা কিংবা কোনো খোলা ঘর। সম্প্রতি তিনি ছেলের নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের স্বার্থে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের পাশের একটি পরিত্যক্ত ও খোলা প্রকোষ্ঠে রাতযাপন শুরু করেন। কিন্তু সেখানে কোনো প্রবেশদ্বার বা দরজা না থাকায় মা ও ছেলেকে প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতা ও নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হতো। একপর্যায়ে ওই ঘরে একটি মজবুত দরজা লাগানোর তীব্র আকুলতা থেকে খুরশিদা বেগম বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সাহায্য চেয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।

উপজেলা পরিষদের নাজিরখানা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন খুরশিদা বেগম নিজে উপজেলা পরিষদের নাজিরখানায় গিয়ে উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনে তাঁর জমানো সমস্ত টাকা জমা দেন এবং ওই ঘরে একটি দরজা স্থাপনের আকুল অনুরোধ জানান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মহম্মদপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী জানতে পেরে খুরশিদাকে সান্ত্বনা দেন এবং তাঁকে সরকারি উদ্যোগে একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জমানো টাকাগুলো ফেরত নিয়ে যেতে বলেন। তবে সরলমনা ওই নারী টাকাগুলো না নিয়েই সেখান থেকে চলে যান।

পরবর্তীতে খুরশিদা বেগমের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী টাকাগুলো নিরাপদে ওই নারীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম এবং উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক বিষয় হলো, দায়িত্ব পাওয়ার পর দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তারা ওই অসহায় নারীর হাতে তাঁর আমানতের টাকা পৌঁছে দেননি। একপর্যায়ে টাকাগুলো মাঝপথ থেকেই উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই চরম অবহেলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৪ জুন ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী কড়া অবস্থান নেন এবং দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি ও অর্থ লোপাটের আশঙ্কায় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। নোটিশে তাঁদের এই অমার্জনীয় অবহেলার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। এই বিষয়ে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একজন অত্যন্ত অসহায় ও অবহেলিত নারীর সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত বা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তদের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। তাঁদের ব্যাখ্যা যদি সন্তোষজনক না হয়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এদিকে এক দিনমজুর ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর শেষ সম্বল নিয়ে এমন চাতুরীর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, যিনি একটি দরজার জন্য মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা জমালেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জিম্মায় থাকার পরও যদি সেই টাকা গায়েব হয়ে যায়, তবে প্রশাসনের সাধারণ মানুষের প্রতি জবাবদিহিতা ও সততা চরম প্রশ্নের মুখে পড়ে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর