ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২

কলেজ অধ্যক্ষ ধর্ষণ মামলার আসামি, লাইব্রেরিয়ান গ্রেপ্তার


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:১০ পিএম

ধর্ষণ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি এক কলেজের অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কলেজটির লাইব্রেরিয়ান আজিজুল আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। পরপর দুটি গুরুতর অভিযোগে রাজশাহীর হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন বেলা আড়াইটার দিকে স্কুল ছুটির পর অভিযুক্ত লাইব্রেরিয়ান আজিজুল আলম এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে মিষ্টি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার রানী দীঘি এলাকায় তার ভাগ্নির বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে বলাৎকারের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে রাজশাহী হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান কলেজের অধ্যক্ষ ড. মারুফ হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি।

অন্যদিকে, গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতির পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীকেও এদিক-সেদিক সরে যেতে দেখা যায়। তাদের এই আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, ঘটনাটি নিয়ে কেন প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী আঞ্চলিক পরিদর্শক এম আশরাফুল আলম মুর্শেদ বলেন, ঘটনাটি তার জানা ছিল না। তবে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম স্থান হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামনে আসছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ ঘটতে পারে।

সংবাদপত্রের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৪৩ শিশু বলাৎকারের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯টি ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে। সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বৃদ্ধি, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর