ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা রাতে ভয়াবহ বিমান হামলা


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৯:২০ এএম

একটি বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর জের ধরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই দফায় দফায় দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টা হামলার কারণে সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রধান দপ্তর ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড’ (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই সর্বশেষ অভিযান চালানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক উসকানি ও আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এবারের সুনির্দিষ্ট হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মজুত ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং সমুদ্রে মাইন স্থাপনের বিশেষ সক্ষমতা ধ্বংস করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটি জানায়, দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত সিরিক বন্দরের নিকটবর্তী তাহরুই গ্রামের আশপাশের এলাকাগুলো শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবারও এই একই এলাকায় মার্কিন বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল। এর পাশাপাশি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির কেশম দ্বীপেও মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

এই হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা ও শর্ত পূরণ না করে, তবে শনিবারের এই সীমিত হামলা আরও বড় এবং ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তিনি যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য তেহরান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। যদিও দুই পক্ষই এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য একে অপরকে সমানভাবে দায়ী করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘ইরান কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন উসকানিমূলক আচরণ চলতে থাকলে আমরা একসময় আমাদের ধৈর্য হারিয়ে ফেলব। আমরা যে অভিযান সফলভাবে শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে চূড়ান্ত শেষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হব। আর যদি সত্যিই তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে পৃথিবীর মানচিত্রে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

এর আগে শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক তেলের ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সৌভাগ্যবশত এই ড্রোন হামলায় জাহাজের কোনো নাবিক হতাহত হননি এবং ট্যাঙ্কারে থাকা তেলেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। সেন্টকমের তথ্যমতে, আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ওই ট্যাঙ্কারটি ২০ লাখ ব্যারেলেলও বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছিল। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘মেরিনট্রাফিক ডটকম’ জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি গত বৃহস্পতিবার আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং আগামী রোববার এর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর