আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়া ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হিসেবে এসেছে ‘এফ’ গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া জাপান। ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে মোট ১৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল জয় পেয়েছে ১১ ম্যাচে, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং জাপান জিতেছে মাত্র একবার। সংখ্যার দিক থেকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক ফলাফল ব্রাজিলের জন্য কিছুটা সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে।
বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে জাপানের কাছে ৩–২ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। ওই ম্যাচে জাপানের আক্রমণভাগ দারুণ পারফরম্যান্স দেখায়। তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদা গোল করেন জাপানের হয়ে। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন পাওলো হেনরিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।
এই হারের মাধ্যমে জাপান প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ তিন গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করে, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই দলের প্রথম মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, রিও ডি জেনেইরোতে। ওই ম্যাচে বিসমার্কের একমাত্র গোলে জয় পায় ব্রাজিল। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে, তবে ফলাফলে আধিপত্য ধরে রেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় জয় আসে ১৯৯৫ সালের আগস্টে। টোকিওতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে মাউরো হোর্হে জাগালোর দল ৫–১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পায়। এছাড়া বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে, জার্মানির ডর্টমুন্ডে। সেই ম্যাচে রোনালদোর জোড়া গোল এবং জুনিনহো ও গিলবার্তোর গোলের সাহায্যে ৪–১ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল।
এখন পর্যন্ত দুই দলের ম্যাচে মোট ৪৫টি গোল হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭টি ব্রাজিলের এবং ৮টি জাপানের। পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষেই স্পষ্ট সুবিধা দেখালেও সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের উন্নত কৌশল ও গতি তাদেরকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে তুলেছে।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে জাপানের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন নেইমার। তিনি মোট ৯টি গোল করেছেন এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। জাতীয় দলের হয়ে তিনি পাঁচটি ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে বিভিন্ন সময় তার গোলগুলো এসেছে প্রীতি ম্যাচ, কনফেডারেশন্স কাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখলেও আধুনিক ফুটবলে জাপানের মতো দলগুলো যে কোনো সময় চমক দেখাতে সক্ষম। তাই আসন্ন ম্যাচে ব্রাজিলের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ হলেও পূর্ণ সতর্কতা নিয়েই মাঠে নামতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।