যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘টেকনিক্যাল’ বা কারিগরি দলের বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইরান। আগামী দিনগুলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তেহরানের এ ধরনের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মঙ্গলবার কাতারে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একটি বিশেষ বৈঠকে বসবেন। ওই প্রতিবেদনগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সেই খবর উড়িয়ে দিয়ে জানাল, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আপাতত বসার কোনো এজেন্ডা তাদের নেই।
দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি স্থাপনে আন্তর্জাতিকভাবে চেষ্টা চলছে। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা কমিয়ে আনতে কাতার ও পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে সবশেষ গত ২১ জুন সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আয়োজিত সেই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীরাসহ চার দেশের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। সুইজারল্যান্ডের সেই বৈঠকের পর নতুন করে কাতারে আলোচনার গুঞ্জন উঠলেও ইরান তা নাকচ করে দিল।
এদিকে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ করার দিনেই তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের প্রতিনিধিরা ওমানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা কাজেম ঘারিবাবাদি লিখেছেন, ওমানের রাজধানী মাসকাট সফরের সময় ‘যৌথ হরমুজ কমিটি’র প্রথম বৈঠকটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রণালির বর্তমান নানাবিধ সমস্যাগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি এর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন।
ভৌগোলিক অবস্থান ও মানচিত্র অনুযায়ী, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি ওমান ও ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, সাধারণত কোনো দেশই এই প্রণালি দিয়ে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক বা সামরিক নৌযান চলাচল বন্ধ করতে পারে না, কিংবা এর জন্য এককভাবে কোনো টোলও আদায় করতে পারে না। ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। ওমানের সঙ্গে ইরানের এই বৈঠককে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ বা মধ্যস্থতা ইরান চাচ্ছে না।