জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় শহর স্টাডেতে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। সোমবার (২৯ জুন) স্থানীয় সময় সকালে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টাডে শহরের একটি যুব সেবা কেন্দ্রে (ইউথ কেয়ার সেন্টার) হঠাৎ এই বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সশস্ত্র পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে একজনকে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও শুটার হিসেবে বিবেচনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ভয়াবহ এই হামলার মূল কারণ এবং কেন যুব সেবা কেন্দ্রটিকে নিশানা করা হলো, তা জানতে ইতিমধ্যে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলায় আটককৃতদের নাম-পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি দেশটির পুলিশ। অপরাধীদের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল নাকি এটি কোনো মনস্তাত্ত্বিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, তা খতিয়ে দেখছেন ফরেনসিক ও অপরাধ তদন্তকারীরা।
এদিকে হামলার পর স্টাডে শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, হামলার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বর্তমানে জনসাধারণের জন্য নতুন করে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। পুরো এলাকার পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।