কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করার বিষয়ে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ কাজে বাইরের কোনো দেশের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। ইরান মনে করে, তৃতীয় কোনো পক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও ওমান যৌথভাবে মাইন অপসারণের কাজ করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এই বক্তব্যের জবাবেই মূলত ইরান তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনের বরাতে জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিজেদের দায়িত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে ইরান অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো অবগত। এই কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার মতো পূর্ণ সামরিক ও কারিগরি সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। তাই এই প্রক্রিয়ায় অন্য কারও নাক গলানোর প্রয়োজন দেখছে না ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি।
ইসমাইল বাঘাই আরও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সাম্প্রতিক একটি সমঝোতা স্মারক সক্ষর হয়েছে। এর আওতায় ইরান নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক ছাড়াই আগামী ৬০ দিন এই বাণিজ্যিক সুবিধা কার্যকর থাকবে। তবে কারিগরি ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি মাইন নিষ্ক্রিয়করণ সাপেক্ষে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই চলাচল চূড়ান্ত ও স্থায়ী রূপ পাবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং কোনো ধরনের বিদেশি সাহায্য ছাড়াই ইরান তা সম্পন্ন করবে।
আমেরিকার সঙ্গে এই যোগাযোগের বিষয়ে ইরানের মুখপাত্র স্পষ্ট করেন, এটি কোনো সামরিক পর্যায়ে হচ্ছে না, বরং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চলছে। ইরানের পক্ষে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই যোগাযোগ রক্ষা করছে। ইরান বারবার জোর দিয়ে বলছে, হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মাইন নিষ্ক্রিয়করণের যাবতীয় বিষয় ‘ইসলামাবাদ স্মারকে’র ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত হবে, যেখানে উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের একক সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি সরবরাহ রুটটি চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।