রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় প্রতিবেশী এক বয়োবৃদ্ধ ঝালমুড়ি বিক্রেতার বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। লুৎফর রহমান (৫৫) নামের ওই বিক্রেতার বাড়ি থেকে শিশুটি পেটে ও বুকে নখের আঁচড় বা ধস্তাধস্তির গভীর ক্ষতচিহ্ন নিয়ে কান্না করতে করতে বাড়ি ফিরলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাংশা উপজেলার পাট্রা ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে শিশুটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত লুৎফর রহমান পেশায় একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা এবং তিনি স্থানীয় একটি স্কুলের পাশে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। সম্পর্ক ও দূরত্বের বিচারে তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির প্রতিবেশী (বাড়ি থেকে ২-৩ বাড়ি পরে)। ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই শিশুটি লুৎফরের বাড়িতে ঝালমুড়ি কিনতে যায়। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে লুৎফর রহমান শিশুটিকে ফুসলিয়ে তার শোবার ঘরে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে শিশুটি কোনোমতে লুৎফরের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করে কান্নাকাটি করতে করতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে।
বাড়ি ফেরার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তার মায়ের সন্দেহ হয়। প্রথমে প্রচণ্ড ভয় ও আতঙ্কের কারণে শিশুটি কিছু বলতে না চাইলেও, মায়ের বারবার জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে লুৎফরের ঘরে ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনা খুলে বলে। এ সময় শিশুটির জামা সরালে তার পেটে এবং বুকে ধস্তাধস্তির কারণে সৃষ্ট ক্ষতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা।
আক্রান্ত শিশুকে উদ্ধার করে স্বজনরা প্রথমে দ্রুত পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবার পাংশা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতা লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই লুৎফর পলাতক রয়েছে। তবে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।