ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

ইরানের বিদায়ে মার্কিন কর্মকর্তার উল্লাস ও নাচ, ক্ষুব্ধ ফুটবল বিশ্ব!


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৪৩ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক:

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ইরানের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ায় প্রকাশ্যেই নিজের উল্লাস ও আনন্দের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। বিশ্বকাপের নিরাপত্তাবিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ইরানের বিদায়ে তিনি এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে লকার রুমে হয়তো দু-একটা গান গেয়েছিলেন কিংবা খুশিতে নেচেও ফেলেছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তার এমন উস্কানিমূলক ও শত্রুতামূলক বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এমন অপেশাদার আচরণে তারা মোটেও অবাক হয়নি। ইরানিদের দাবি, এই মন্তব্যই প্রমাণ করে যে শুরু থেকেই বৈশ্বিক এই মহোৎসবে ইরানকে স্বাগত জানানোর মানসিকতা মার্কিনদের ছিল না এবং তারা আন্তর্জাতিক আইন ও ক্রীড়া সুলভ আচরণ বজায় রাখার ন্যূনতম যোগ্যতা রাখে না।

বিশ্বকাপে ইরানের পুরো যাত্রাটিই ছিল নানা নাটকীয়তা ও বৈষম্যে ভরা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দলটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েই তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ভূরাজনৈতিক বৈরিতার সব বাধা পেরিয়ে ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও মাঠ ও মাঠের বাইরে তাদের চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই তারা ড্র করে। বিশেষ করে মিসরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয়ের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল এশিয়ান পরাশক্তিরা। তবে শেষ মুহূর্তে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত অফসাইডের সিদ্ধান্তের কারণে তারা জয় থেকে বঞ্চিত হয়, যার ফলে শেষ ৩২-এ ওঠার ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করে বিদায় নিতে হয় দলটিকে। টুর্নামেন্ট চলাকালীনই মার্কিন কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন। দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই আক্ষেপ করে তাঁর দলকে এই বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে নিপীড়িত’ দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। কোচ দাবি করেন, রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে ফেলে অন্য দলগুলোর তুলনায় ইরানকে প্রয়োজনের চেয়ে অর্ধেকেরও কম অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। মিসরের সঙ্গে ড্র করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ইরান অধিনায়ক মেহদী তারেমি নিজের ক্ষোভ লুকিয়ে রাখতে পারেননি। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান, এটি ছিল একটি জঘন্য বিশ্বকাপ এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার উচিত ছিল শুরু থেকেই দলগুলোর ওপর রাজনৈতিক হয়রানির সমাধান করা, যা তারা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

ইরান দলের প্রতি মার্কিনদের অমানবিক আচরণের একটি বড় উদাহরণ ছিল তাদের আবাসন ও ক্যাম্পিংয়ের সমস্যা। ইরান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুকসনে তাদের অফিশিয়াল ক্যাম্প করতে চেয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক জটিলতায় গত মে মাসে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায় ক্যাম্প স্থানান্তর করতে তারা বাধ্য হয়। ইরানের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, যার মধ্যে প্রথম দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং শেষটি সিয়াটলে। প্রতি ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের সুযোগ না দিয়ে দ্রুত মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হতো। এই অমানবিক চুক্তি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা মার্কওয়েন মুলিন সাফ জানান, খেলা শেষে তাদের চলে যেতে হবে, এটাই ছিল পূর্ব চুক্তি। তিনি উল্টো দাবি করেন, ইরানের খেলোয়াড় ছাড়া প্রতিনিধিদলের প্রায় অর্ধেক সদস্যের সঙ্গে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি সম্পর্ক ছিল, যা তাদের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখতে বাধ্য করেছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে ফুটবলের সবুজ গালিচাতেও এখন রাজনীতির নোংরা থাবা কতটা গভীর।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর