হেরে যাওয়ার পর সেনেগালের ফুটবলারদের চোখের পানি পৃথিবীর যেকোনো ক্রীড়াপ্রেমীর হৃদয়কে নাড়া দিতে বাধ্য। বিশেষ করে তরুণ মিডফিল্ডার লামিনে কামারার বুকফাটা কান্না যেন পুরো ম্যাচের ট্র্যাজেডিকে ফুটিয়ে তুলছিল। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁর করা একটি ফাউলের কারণেই পেনাল্টি পেয়েছিল বেলজিয়াম, যা থেকে আসে তাদের জয়সূচক গোল। ম্যাচ শেষে এই পরাজয়ের সবটুকু দায় যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন কামারা। সতীর্থ মুসা নিয়াখাত থেকে শুরু করে দলের কোচিং স্টাফ—কেউই কামারার কান্না থামাতে পারছিলেন না। এমনকি প্রতিপক্ষের জয়ের নায়ক ইউরি তিলেমান্সও কামারার মাথায় ও পিঠে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু সান্ত্বনার কোনো ভাষাই কামারার সেই গভীর ক্ষতকে উপশম করতে পারছিল না। হয়তো এই দুঃখ ভুলতে তাঁর পুরো ক্যারিয়ারটাই লেগে যেতে পারে।
কামারার এই কান্না দেখে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বারবারই প্রশ্ন জাগছিল, নিয়তি কেন এত নিষ্ঠুর হয়? এভাবেও কি কোনো ম্যাচ হাতছাড়া হতে পারে? এই অবিশ্বাস্য হার শুধু কামারাকে নয়, সাদিও মানে কিংবা ইসমাইলা সারের মতো তারকাদেরও দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়াবে। কিছুদিন আগেই জেতার পরও হাতছাড়া হয়েছিল সেনেগালের আফকন শিরোপা, আর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে এমন হৃদয়বিদারক বিদায়; ভাগ্যের ওপর অভিমান করা ছাড়া আফ্রিকান দলটির যেন আর কিছুই করার ছিল না।
ফুটবল এমনই এক সুন্দর অথচ নির্মম খেলা। মুহূর্তের মধ্যে এটি যেমন আনন্দের জোয়ারে ভাসাতে পারে, তেমনি চোখের পলকে হয়ে উঠতে পারে এক চরম আততায়ী। সিয়াটলে আজ ভোরে ঠিক তেমনই এক নিষ্ঠুরতার শিকার হলো সেনেগাল। অথচ ম্যাচের সিংহভাগ সময় যেভাবে আধিপত্য নিয়ে তারা খেলছিল, তাতে অনেক দর্শক হয়তো টিভির পর্দাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যারা খেলাটি দেখেছেন, তারা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক রোমাঞ্চকর থ্রিলারের সাক্ষী হয়েছেন।
রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বা নিজেদের রক্ষণভাগের ভুল—হেরে যাওয়ার পেছনে কারণ যাই থাকুক না কেন, সিয়াটলের বাতাসে কামারার কান্নার প্রতিধ্বনি থাকবে আরও অনেক দিন। ফুটবল ইতিহাসে মারাকানা কিংবা বেলো হরিজন্তের মাঠে যেমন ব্রাজিলিয়ানদের কান্নার করুণ সুর লুকিয়ে আছে, তেমনি সিয়াটল স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে কান পাতলে দীর্ঘদিন শোনা যাবে লামিনে কামারার ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ।