ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

কেপ ভার্দে ম্যাচের সাথে সৌদি আরবের তুলনা টানলেন স্কালোনি


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:৪৩ এএম

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচই যে এক একটি কঠিন যুদ্ধ, তা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আরও একবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে আফ্রিকার দলটির বিরুদ্ধে ১২০ মিনিটের এক মহানাটকীয় ও তীব্র কষ্টের জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার পর আর্জেন্টাইন কোচের কণ্ঠে যেমন ফুটে উঠেছে চরম স্বস্তি, ঠিক তেমনি প্রকাশ পেয়েছে গভীর ফুটবলীয় আবেগ। বিশেষ করে বিগত কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ঐতিহাসিক হারের ম্যাচের সাথে এই ম্যাচের একটি তাৎপর্যপূর্ণ তুলনা টেনেছেন স্কালোনি।

গত বিশ্বকাপের সেই প্রথম ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে স্কালোনি বলেন, যদি আমি সৌদি আরব ম্যাচের সাথে আজকের লড়াইয়ের তুলনা করি, তবে বলব আজ আমাদের দল মাঠে একটি দুর্দান্ত পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সেই ম্যাচের চেয়ে এখন আমাদের ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। বর্তমান দলের সবাই জানে ঠিক কীভাবে বিশ্বকাপের মঞ্চে চাপের মুখে খেলতে হয়। সৌদি আরবের বিপক্ষে সেদিন আমাদের দল মাঠের ভেতর একদম নিষ্প্রভ ও দিকভ্রান্ত ছিল, কিন্তু আজ কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ছেলেরা মোটেও নিষ্প্রভ ছিল না; বরং তারা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে।

আর্জেন্টিনার ডাগআউটে এটি ছিল কোচ হিসেবে স্কালোনির ১০০তম ম্যাচ। নিজের এই বিশেষ মাইলফলকের স্মারক ম্যাচে শেষ মুহূর্তে জয় পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার শততম ম্যাচের মতো একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীকী তারিখে যদি দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিত, তবে সেটা হতো চরম এক পাগলামি এবং অত্যন্ত দুঃখজনক একটি পরিসংখ্যান। কিন্তু দিনশেষে এটাই ফুটবল এবং এখানে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের ১০০টি ম্যাচের মধ্যে এই ম্যাচটি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে ও স্পর্শ করেছে উল্লেখ করে স্কালোনি বলেন, যেহেতু এটি বিশ্বকাপ এবং এখানে আমাদের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিততে হয়েছে, তাই একজন কোচ হিসেবে এই ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাকে ভবিষ্যতে অনেক সাহায্য করবে।

ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে স্কালোনি সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে বলেন, অনেকেই আমাকে বলছিলেন আমরা নাকি খুব সহজ পথ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি আজ কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স দেখার পর সবাই বুঝতে পেরেছেন যে বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হবে, তবে প্রতিপক্ষ আমাদের জন্য কাজটা আরও জটিল করে তুলেছিল। দলের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আমি অবশ্যই ছেলেদের সাথে আলাদাভাবে কথা বলব, তবে আজ মাঠের ইতিবাচক দিকটাই বেশি ছিল। দল গোল খাওয়ার পর এবং একের পর এক ধাক্কা খাওয়ার পরেও প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে আক্রমণ চালানো বন্ধ করেনি এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এটাই আর্জেন্টিনা, যারা এই দলটিকে মন থেকে বোঝে না, তাদের জন্য আলবিসেলেস্তেদের এই ফুটবলীয় চরিত্র অনুধাবন করা কঠিন।

অতিরিক্ত সময়ে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি এবং মাঝমাঠের তারকা এনসো ফের্নান্দেজের পায়ে ক্র্যাম্প বা টান লাগার বিষয়ে স্কালোনি জানান, অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলার কারণে খেলোয়াড়েরা ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। এনসোর পায়ে যখন ক্র্যাম্প ধরে, তখন আমাদের হাতে আর কোনো খেলোয়াড় বদলির সুযোগ ছিল না। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময় হৃদয় থেকে আসে এবং সেই ফুটবলীয় আবেগই মাঠের ভেতরের দমের অভাব বা শারীরিক ক্লান্তি দূর করে দেয়। কেপ ভার্দের গোলের প্রশংসা করে স্কালোনি স্বীকার করেন, ওটা ছিল সত্যিই একটি অবিশ্বাস্য গোল। আমরা জানতাম তাদের ফরোয়ার্ড ভেতরে ঢুকে ডান পায়ে শট নেয়, কিন্তু ওমন নিখুঁত শট ঠেকানো যেকোনো গোলরক্ষকের জন্যই অসম্ভব।

সবশেষে একাদশে লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের একসাথে খেলার বিতর্ক নিয়ে স্কালোনি বলেন, কোচের কাজই হলো মাঠের সমাধান খুঁজে বের করা এবং দলের ভারসাম্য বজায় রাখা। লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ এবং হুলিয়ান আলভারেজ—এই তিন তারকাকে একসাথে খেলানো মোটেও সহজ কাজ নয়। তবে এটি কোনো অজুহাত নয়, ম্যাচের কোনো না কোনো পর্যায়ে আমাদের কষ্ট করতেই হতো। ভবিষ্যতের কোনো ম্যাচে হয়তো তারা একসাথে খেলবে, তবে আজ আমরা মনে করেছি সেটার প্রয়োজন ছিল না। সমস্ত বাধা পেরিয়ে আর্জেন্টিনা এখন শেষ ষোলোর মঞ্চে মোহামেদ সালাহর মিশরের মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর