ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

মেসির আড়ালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র মাতিয়াস মান্না


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১১:৩৪ এএম

ক্রীড়া ডেস্ক

মাঠে যখন আলবিসেলেস্তেরা একের পর এক ট্রফি জেতে কিংবা ২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করে, তখন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত উল্লাসে মেতে ওঠেন। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের এই তুমুল ও ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে এমন একজন মানুষ নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, যিনি ক্যামেরার আলো ও প্রচারের আলো থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রাখতেই পছন্দ করেন। তিনি হলেন দলটির প্রধান ভিডিও অ্যানালিস্ট মাতিয়াস মান্না। কোচ লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্যকে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে প্রায়শই আর্জেন্টিনার সাফল্যের 'নীরব কারিগর' বা 'পর্দার আড়ালের মাস্টারমাইন্ড' বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

বিশ্বকাপ এবং কোপা আমেরিকার মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোতে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর নজর কেড়েছে দলটির ব্যাকরুম স্টাফরা। ইএসপিএন, দ্য অ্যাথলেটিক এবং ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মাতিয়াস মান্নাকে নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্কালোনির মূল রণপরিকল্পনার একটি বড় অংশ তৈরি হয় মান্নার দেওয়া চুলচেরা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। বিশেষ করে লাইভ ম্যাচ চলাকালীন পাবলো আইমারের কানে যে হেডসেটটি দেখা যায়, তার অপর প্রান্তে থাকেন এই মান্না। গ্যালারির উঁচুতে বসে পুরো মাঠের ট্যাকটিক্যাল ভিউ পর্যবেক্ষণ করে তিনি ডাগআউটে তাৎক্ষণিক বার্তা পাঠান, যা বহু ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।

মাতিয়াস মান্নার কাজের পরিধি কেবল ল্যাপটপে কিছু ভিডিও ক্লিপ কাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও গাণিতিক প্রক্রিয়া। ম্যাচের আগে তিনি প্রতিপক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১৫টি পুরোনো ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ব্যবচ্ছেদ করেন। বিপক্ষ দলের কোন ডিফেন্ডার চাপের মুখে বল হারাচ্ছেন, কোন মিডফিল্ডার পাস বাড়াতে বেশি সময় নিচ্ছেন, কিংবা সেট-পিস নেওয়ার সময় গোলরক্ষক কোন দিকে ঝুঁকে থাকেন—সবকিছুই নিখুঁতভাবে নোট করেন তিনি। আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং থ্রি-ডি ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে তিনি এমন সব ফাঁকফোকর খুঁজে বের করেন, যা খালি চোখে ধরা অসম্ভব। এই তথ্যগুলোই পরবর্তীতে লিওনেল মেসি বা রদ্রিগো ডি পলের মতো ফুটবলারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যেন তারা মাঠে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মান্নার এই নিরলস পরিশ্রমের সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় দলের মাঠের ভেতরের সাফল্যে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতেও দেখা গেছে, প্রতিপক্ষ দল যখনই নতুন কোনো ফর্মেশনে আর্জেন্টিনাকে আটকানোর চেষ্টা করেছে, স্কালোনি দ্রুতই ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন এনেছেন। এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পেছনের মূল শক্তিই হলো ভিডিও অ্যানালিস্টের লাইভ ফিডব্যাক। বল পজেশন ধরে রাখা, প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ লাইনের ফাঁক গলে মেসির জন্য জায়গা তৈরি করা এবং নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাক সাজানোর পেছনে মান্নার অ্যানালিসিস দারুণভাবে কাজ করেছে। মিডিয়ার পরিভাষায়, স্কালোনি যদি মাঠের সেনাপতি হন, তবে মাতিয়াস মান্না হলেন সেই মানচিত্রকার, যার নিখুঁত মানচিত্র ধরে আর্জেন্টিনা একের পর এক জয়ের বন্দরে পৌঁছাচ্ছে।

আকাশজমিন/ আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর