ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

কেপ ভার্দেকে হারিয়ে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল আর্জেন্টিনার


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১১:৫৩ এএম

ক্রীড়া প্রতিবেদক 

ফুটবল বিশ্বকাপের স্কোরবোর্ড সব সময় মাঠের ভেতরের আসল লড়াইয়ের তীব্রতা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। কাগজে-কলমে এই ম্যাচের বিজয়ী দলের নাম আর্জেন্টিনা এবং পরাজিত পক্ষ কেপ ভার্দে। তবে আটলান্টিক মহাসাগরের বুক থেকে উঠে আসা আফ্রিকার একটি পুঁচকে দল যেভাবে ১২০ মিনিটের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তটস্থ ও দিশেহারা করে রাখল, তা ফুটবল ইতিহাসে এক রূপকথা হিসেবে লেখা থাকবে। প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে খেলতে আসা একটি দলের বিরুদ্ধে শেষ বাঁশি বাজার পর আলবিসেলেস্তেদের বন্য উল্লাস দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ট্রফি ধরে রাখার অভিযানে এসে শেষ বত্রিশের এই ম্যাচটি জিততে কতটা ঘাম ঝরাতে হয়েছে লিওনেল মেসিদের। ম্যাচের ১১১তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডটি ডিফেন্ডার বোর্জেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে না জড়ালে হয়তো টাইব্রেকারের লটারিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের করুণ ছবিও দেখতে হতে পারত ফুটবল বিশ্বকে।

লড়াইয়ের শুরুতে শক্তির বিশাল ব্যবধান দেখে অনেকেই এই নকআউট ম্যাচটিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘মিস ম্যাচ’ বা অসম লড়াই বলে মনে করেছিলেন। তবে মাঠের ফুটবলে কেপ ভার্দে এটিকে রূপ দিল এক ঐতিহাসিক ‘বিগ ম্যাচে’। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার পাস নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার মাথার ওপর দিয়ে চতুরতার সাথে বল জালে জড়ান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলতি আসরে এটি মেসির সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২০তম গোল। একই সাথে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। তবে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয় আফ্রিকান দলটির অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ ও আক্রমণ পর্ব। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ব্যবধান বাড়ানোর নিশ্চিত সুযোগ পেলেও ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনিয়া তা চমৎকারভাবে নসাৎ করে দেন।


দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ অন্য এক আক্রমণাত্মক কেপ ভার্দেকে দেখা যায়। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে দেরয় দুয়ার্তের এক জোরালো শট বিশ্বসেরা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কোনোমতে প্রতিহত করলেও, এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর আর রক্ষা পাননি। ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের নিখুঁত কাটব্যাক থেকে এক কোণাকুণি শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফেরান সেই দুয়ার্তে। গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় অস্থির হয়ে ওঠেন কোচ লিওনেল স্কালোনি; তিনি মাঠে নামান হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গনসালেস ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসদের। তবে ম্যাচের শেষ দিকে মেসির একের পর এক ফ্রি-কিক এবং পারেদেসের দূরপাল্লার শটের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান অদম্য ভোজিনিয়া। ফলে ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই, অর্থাৎ ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের ফ্লিকে বল পেয়ে বাম পায়ের দারুণ শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। কিন্তু কেপ ভার্দে দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না। ১০৩ মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে এক অসাধারণ বাঁকানো শটে বল দূরের পোস্টে জড়িয়ে আবারও আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেন সিডনি কাবরাল। ম্যাচ যখন নিশ্চিত টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ১১১ মিনিটে আসে কেপ ভার্দের সেই হৃদয়ভাঙা আত্মঘাতী গোল। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও কাবরালের ফ্রি-কিক এবং গিলসন বেঞ্চিমোলের নিশ্চিত গোল ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করে আর্জেন্টিনার নায়ক বনে যান এমি মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কালোনির শিষ্যরা।

আকাশজমিন/ আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর