১৯৬৬ সালের ১০ আগস্ট মিশরের কায়রোর হেলওয়ান অঞ্চলের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া হোসাম ও ইব্রাহিমের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক অনটনের মাঝে। তবে ফুটবলই বদলে দেয় তাঁদের নিয়তি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে দুই ভাই একসাথে যোগ দেন দেশটির ঐতিহ্যবাহী আল আহলি স্পোর্টিং ক্লাব একাডেমিতে। খেলোয়াড়ি জীবনেও তাঁরা ছিলেন একজন আরেকজনের পরম ছায়া। হোসাম খেলতেন স্ট্রাইকার হিসেবে আর ইব্রাহিম সামলাতেন রক্ষণভাগ। ক্লাব ফুটবলে আল আহলি ছাড়াও গ্রিসের পিএওকে এফসি, সুইজারল্যান্ডের নিউশাতেল জ্যামাক্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন এফসির হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন এই যমজ জুটি। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপেও পাশাপাশি খেলেছিলেন তাঁরা। দেশের হয়ে ৬৮টি গোল করা হোসাম হাসান এখনো মিশরের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বুট জোড়া তুলে রাখার পরও এই দুই ভাই আলাদা হননি; মিশরের বিভিন্ন নামী ক্লাব ও জর্ডান জাতীয় দলের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মিশর জাতীয় দলের দায়িত্ব।
দুই ভাইয়ের জাদুকরি ছোঁয়ায় মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে আমূল বদলে গেছে মিশরের ফুটবল সংস্কৃতি। বাছাই পর্বের কঠিন বাধা অনায়াসে পার করে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পর এবার গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পেরিয়ে শেষ ষোলোতে পা রেখেছে সালাহ-মারমুশরা। বিশ্ব ফুটবলে দুই ভাইয়ের একসঙ্গে খেলার ভুরিভুরি নজির থাকলেও, বুট জোড়া তুলে রাখার পর জাতীয় দলের ডাগআউটে কোচিং স্টাফ হিসেবে এমন রূপকথা লেখার ঘটনা ইতিহাসে সত্যিই বিরল। আগামী মঙ্গলবার ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে হোসাম ও ইব্রাহিম হাসান আরও একটি মহাকাব্যিক চমক উপহার দিতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।