যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফরাসিরা। ম্যাচের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। এই জয়ের পর আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফরাসিরা। উল্লেখ্য, মরক্কোও তাদের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রাখলেও ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলা প্যারাগুয়ের জমাট ডিফেন্সের সামনে প্রথমার্ধে বিন্দুমাত্র সুবিধা করতে পারেনি এমবাপে ব্রিগেড। প্রথম ২০ মিনিটে প্যারাগুয়ের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি তারা। ১৯৬৬ সালের পর এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এত দেরিতে প্রথম শটের দেখা পেল ফ্রান্স। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন বন্ধ্যাত্বের মুখে পড়েছিল তারা। প্রথমার্ধে এমবাপে ও উসমান দেম্বেলেদের করা ২০টি ক্রসের একটিও প্রতিপক্ষের বক্সে ফরাসিদের কোনো সুবিধা দিতে পারেনি। উল্টো ৩১ মিনিটে এমবাপের হেড মিস আর দেম্বেলের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশ হতে হয় কোচ দিদিয়ের দেশমকে। মাঝমাঠে এমবাপেকে পেছন থেকে কুবেসের টেনে ধরা নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঠেই এক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়, যা রেফারি এসে শান্ত করেন।
বিরতির পর ম্যাচের ৫২ মিনিটে পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স। প্রথমে গোলরক্ষক মাইক মাইনানের লম্বা পাস ধরে ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে চলে যান এমবাপে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্যারাগুয়ে ডিফেন্ডার কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে বল ক্লিয়ার করেন। সেই কর্নার থেকে উসমান দেম্বেলের শট পাশের জালে লাগে। এর দুই মিনিট পর কোনের এক দূরপাল্লার রকেট গতির শট লাফিয়ে উঠে জালের ওপর দিয়ে পার করে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।
তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরে ৬৬ মিনিটে। প্যারাগুয়ের পেনাল্টি এরিয়ায় বদলি নামা ফরাসি ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়েকে ফাউল করে বসেন দিয়োগো গোমেজ। শুরুতে রেফারি এড়িয়ে গেলেও ভিএআর (VAR) রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে বাধ্য হন। ৭০ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে পাঠিয়ে ঠান্ডা মাথার নিখুঁত ও নিচু শটে ফ্রান্সকে উল্লাসে ভাসান কিলিয়ান এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ৭ গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। একই সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির (২০ গোল) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ১৯ গোল করা এমবাপে।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া প্যারাগুয়ের মাউরিসিওর এক নিচু শট দুর্দান্ত ডাইভে রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনান। ওদিকে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে এমবাপের পরপর দুটি বুলেট গতির শট অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি প্যারাগুয়ে গোলকিপার গিল। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলের লিড ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।