স্পোর্টস ডেস্ক:
ডাল্লাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি পর্তুগাল ও স্পেন। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই মহারণে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই মহাতারকার এটি হবে পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩তম ম্যাচ। তবে ম্যাচটি রোনালদোর জন্য বিশেষ হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৯টি সোনালি বছর কাটানো এই পর্তুগিজ কিংবদন্তিকে এবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে ভাঙতে হবে সেই চেনা স্পেনের প্রতিরোধই।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো বলেন, ‘স্পেনের বিপক্ষে খেলতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। ওদের বিপক্ষে আমার রেকর্ডও বেশ ভালো। আমি ১০ বা ১১ বার ওদের মুখোমুখি হয়েছি, আর লড়াইগুলো সবসময়ই সমানে-সমান হয়েছে।’ আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের বিপক্ষে রোনালদোর গোলসংখ্যা চারটি। এর মধ্যে তিনটিই এসেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপে। ওই ম্যাচে তার হ্যাটট্রিকে স্পেনের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল পর্তুগাল। প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করেই রোনালদো বলেন, ‘ইউরো কিংবা নেশন্স লিগ, সব প্রতিযোগিতাতেই স্পেন সবসময় অন্যতম ফেভারিট। কাগজে-কলমে ওরাই এগিয়ে, ট্রফিও আমাদের চেয়ে বেশি। তবে এটি ভিন্ন প্রতিযোগিতা। এখানে চোট, আবহাওয়া এবং ছোট ছোট বিষয়ও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।’
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতোমধ্যেই ব্রাজিল ও মেক্সিকোর মতো শক্তিশালী দলের বিদায়ের উদাহরণ টেনে রোনালদো মনে করিয়ে দেন, এই পর্যায়ে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। যদিও এই ম্যাচটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রোনালদো। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবে ছোট ছোট কিছু মুহূর্ত। তবে আমার মন বলছে, ম্যাচটা আমরাই জিততে যাচ্ছি।’
বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে পর্তুগিজ যুবরাজের ওপর। রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সুবাদে স্প্যানিশ ফুটবলের নাড়িভুঁড়ি সবই চেনা এই মহাতারকার। স্পেনের ডিফেন্ডারদের কীভাবে পরাস্ত করতে হয়, তা তার চেয়ে ভালো আর কে জানেন! ম্যাচটিতে পর্তুগালের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হয়ে থাকবেন ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। নকআউট পর্বের এই কঠিন সমীকরণে রোনালদোর অভিজ্ঞতা ও গোল করার ক্ষুধা পর্তুগালকে ম্যাচে দারুণ সুবিধা দিতে পারে। মাঠের আবহাওয়া আর কৌশলগত লড়াইয়ে স্প্যানিশ আর্মাডাকে রুখে দিয়ে পর্তুগালকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দিতে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত সিআরসেভেন। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই লড়াইকে ঘিরে পুরো ফুটবল বিশ্বের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।