ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:৩০ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক:

এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছর পর সেই মাঠেই শেষ হয়ে গেল নেইমার জুনিয়রের বর্ণাঢ্য অধ্যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ এর মধ্য দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে শেষ হলো নেইমারের ১৬ বছরের রঙিন, আলোচিত এবং আবেগঘন এক অধ্যায়।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের পথচলাটা ছিল সংখ্যাতেও অসাধারণ। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অভিষেকের পর ব্রাজিলের জার্সিতে খেলেছেন ১২৯টি ম্যাচ। করেছেন ৮০টি গোল, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চারটি বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে জিতেছেন রৌপ্যপদক, আর ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছেন ফুটবল ইভেন্টে দেশটির ইতিহাসের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক। ডান পায়ের কাফের চোট নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন নেইমার। তাই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাত্র ১৪ মিনিট খেলেছিলেন। এরপর জাপানের বিপক্ষে মাঠেই নামা হয়নি।

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও তাকে শুরুতে বেঞ্চে রেখেছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে দল পিছিয়ে পড়ার পর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি। সেটিই হয়ে থাকল চলতি বিশ্বকাপে তার একমাত্র গোল এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৮০তম ও শেষ গোল। তবে সেই গোলও ব্রাজিলকে বিদায়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। আগামী ১১ জুলাই শেষ আটে তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো ম্যাচের বিজয়ীর। পেলেকে ছাড়িয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন নেইমার। তবে দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না তার। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের অশ্রুসিক্ত রাতেই শেষ হলো ব্রাজিল ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

ব্রাজিল ফুটবলের 'পোস্টার বয়' হিসেবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তকে মাতিয়ে রেখেছিলেন নেইমার। মাঠে তার জাদুকরী ড্রিবলিং আর নান্দনিক ফুটবল শৈলী সবসময়ই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। বহু চোট আর বিতর্কের মধ্য দিয়ে গেলেও দেশের জার্সিতে যখনই মাঠে নেমেছেন, উজাড় করে দিয়েছেন নিজেকে। পেলের মতো কিংবদন্তিকে টপকে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিজের করে নিলেও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে না পারার বেদনা হয়তো তাকে আজীবন পোড়াবে। তবুও সেলেসাওদের সোনালি ইতিহাসে নেইমারের নাম লেখা থাকবে এক অনন্য মহানায়ক হিসেবে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের যে সবুজ ঘাসে শুরু হয়েছিল এক কিশোরের স্বপ্নযাত্রা, সেখানেই অশ্রুসিক্ত চোখে ইতি টানলেন এক পরিপক্ক ফুটবল জাদুকর।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর