মোহাম্মদ বাকী অনীক, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বোনের ভাড়া বাসায় মো. জুনায়েদ নামের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিল এবং সবার অগোচরে সে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটায়।
সোমবার (৬ জুলাই) আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের অন্তর্গত উত্তর শশীদল পূর্বপাড়া গ্রামের হাজী মোতালেবের ভাড়া বাড়িতে এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মো. জুনায়েদ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কান্দুঘর গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোর জুনায়েদ বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর মানসিক রোগে ভুগছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকা উত্তর শশীদল পূর্বপাড়া গ্রামে তার বোন সাদিয়া আফরিনের স্বামীর ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসে। এরপর সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে জুনায়েদ ওই বাসার বাথরুমের ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে তোয়ালে রাখার স্ট্যান্ডের সাথে নিজের পরনের লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।
এদিকে গভীর রাতে দীর্ঘ সময় ধরে বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এবং কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় ঘরের অন্য সদস্যদের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জুনায়েদের বোন সাদিয়া আফরিন ও আশপাশের স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে বাথরুমের দরজা জোরপূর্বক ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা জুনায়েদকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। স্বজনেরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাকে উদ্ধার করে নিচে নামালেও ততক্ষণে ওই কিশোর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত উৎসবস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে জুনায়েদের মা পুলিশকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতার কারণেই পরিবারের সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে তার ছেলে বাথরুমে ঢুকে আত্মহত্যা করেছে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ভুক্তভোগী কিশোরটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।