ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনের কাছে ১-০ গোলের ন্যূনতম ব্যবধানে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে পর্তুগালকে। আর এই হতাশাজনক পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই পর্তুগিজ শিবিরে এলো আরও এক বড় ধাক্কা। দলের এই চরম ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রবার্তো মার্টিনেজ। স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচটিকে পর্তুগিজ ফুটবল দলের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি বলে মন্তব্য করেছেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে, পর্তুগালের ডাগআউটে কোচ হিসেবে তাকে আর দেখা যাবে না।
হাই ভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে রবার্তো মার্টিনেজ জানান, সোমবারই পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সাথে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন কোনো যোগ্য কোচ বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও সুযোগ তৈরি হয়েছে পর্তুগালের ফুটবল বোর্ডের সামনে। অবলীলায় নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে মার্টিনেজ বলেন, তিনি পর্তুগাল দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মূলত বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে, পর্তুগালকে বিশ্বকাপ এনে দিতে। যেহেতু সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, তাই এই পদে আর বহাল থাকার কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপ না জিতলে এই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো মানে হয় না।
বিদায়ী এই কোচ আরও স্পষ্ট করেন যে, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে তার ভবিষ্যৎ বা পদত্যাগ নিয়ে বোর্ডের সাথে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে স্পেনের বিপক্ষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হারই যে পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ ছিল, তা তিনি শতভাগ নিশ্চিত করেছেন। পর্তুগালের ফুটবলারদের সাথে কাটানো সময়গুলোর কথা স্মরণ করে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। মার্টিনেজ বলেন, বিদায় বেলায় তিনি অত্যন্ত গর্বিত। পর্তুগালের মাটিতে পা রাখার পর থেকে ওখানকার মানুষ তাকে পর্তুগিজদের মতোই আপন করে নিয়েছিল। যে উষ্ণ ভালোবাসা ও সম্মান তিনি পেয়েছেন, তা তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের এবং একই সাথে এক বিশাল দায়িত্বের বিষয় ছিল।
পর্তুগালের এই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারেরও ইতি ঘটতে যাচ্ছে। রোনালদোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা অবসর নিয়ে রবার্তো মার্টিনেজ বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, নিজের এই প্রিয় অধিনায়ককে বিদায়ী শ্রদ্ধা জানাতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি তিনি। রোনালদোর অবদানের কথা উল্লেখ করে বিদায়ী স্প্যানিশ কোচ বলেন, তিনি রোনালদোকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাতে চান। কারণ সিআর সেভেন মাঠের ভেতরে এবং বাইরে পর্তুগাল দলের জন্য একজন অনুকরণীয় অধিনায়ক ছিলেন। রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব কেবল গোলের হিসাব বা পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যাবে না, অ্যাসিস্ট করার ক্ষেত্রেও তার অবদান ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মার্টিনেজের এই আকস্মিক বিদায়ের পর এখন কার হাতে উঠছে পর্তুগালের দায়িত্ব, সেটিই দেখার বিষয়।