বিনোদন ডেস্ক:
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বহুলালোচিত নির্বাচন শেষ হলেও তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বিতর্ক, আলোচনা ও তীব্র সমালোচনা যেন কিছুতেই থামছে না। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ সামনে এনেছেন কয়েকজন অংশ নেওয়া শিল্পী। এর মধ্যে এবারের নির্বাচনে অর্থের অবৈধ প্রভাব খাটানো হয়েছিল বলে সরাসরি গুরুতর অভিযোগ তোলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পলি। সেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার গণমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা শানু।
তিনি মনে করেন, যেকোনো নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই এবং এটি সম্পূর্ণ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে পরাজয়ের পর অনেক সময় অবচেতন মনে হতাশা বা তীব্র অভিমানের জায়গা থেকে পরাজিত প্রার্থীরা বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য বা অভিযোগ করে থাকেন। চিত্রনায়িকা পলির এই অভিযোগগুলোকে তিনি মূলত তেমনই এক ধরণের হতাশা হিসেবে দেখছেন। শিবা শানু বলেন, নির্বাচনে ভরাডুবি বা পরাজয় হলে স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো মানুষের মন খারাপ হয়। আবার হারের পর চারপাশ থেকে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কথা শুনতে হলে সেই কষ্টের মাত্রা আরো বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সাময়িক খারাপ লাগা ও অভিমান কেটে যাবে।
নবনির্বাচিত কমিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বিশদভাবে তুলে ধরে সভাপতি জানান, শিল্পী সমিতির সামগ্রিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল এবং জনকল্যাণমুখী করতে খুব দ্রুত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকমিটি গঠন করা হবে। সেখানে শুধু তাঁর প্যানেলের বিজয়ী সদস্যরাই নন, বরং নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়া প্রার্থীদেরও সমানভাবে যুক্ত করা হবে, যাতে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবাই মিলে সাধারণ শিল্পীদের কল্যাণে একযোগে কাজ করতে পারেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, যারা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তারা সবাই মূলত শিল্পীদের উন্নয়ন ও জন্য কাজ করার তীব্র ইচ্ছা নিয়েই মাঠে এসেছেন। তাই আমরা তাদের সেই পূর্ব অভিজ্ঞতা ও আগ্রহকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে চাই। আসন্ন উপকমিটিগুলোতে তাদের সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে সবাই মিলে আমাদের ভালোবাসার শিল্পী সমিতিকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
চিত্রনায়িকা পলির টাকার খেলা বা অর্থের প্রভাব সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান তুলে ধরেন শিবা শানু। অভিযোগটি সরাসরি উড়িয়ে বা অস্বীকার না করলেও তিনি মনে করেন, এটি হয়তো নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত পরাজয়ের চরম হতাশা থেকেই হুট করে এসেছে। পাশাপাশি পলির এই স্পর্শকাতর বক্তব্যটি ব্যক্তিগতভাবে বিস্তারিত ও মনোযোগ সহকারে শুনে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর কথায়, তিনি যে অভিযোগ করেছেন, আমার মনে হয় না কেউ শুধুমাত্র টাকার জন্য এখানে নির্বাচন করতে এসেছে। হয়তো পরাজয়ের কষ্ট থেকেই তিনি গণমাধ্যমে এমন কথা বলেছেন। তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে আমি আগে ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে একা কথা বলতে চাই। তিনি আসলে কী বলতে চাচ্ছেন, সেটা সম্পূর্ণ শুনে তারপর প্রয়োজন হলে আমরা কার্যনির্বাহী কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেব। সবশেষে নবনির্বাচিত সভাপতি বলেন, নির্বাচন এখন অতীত। ব্যক্তিগত সব মতভেদ ভুলে শিল্পীদের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।