বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের কাছে ‘আইশোস্পিড’ নামে পরিচিত এই অনলাইন পারফর্মার ও ইউটিউবারের আসল নাম ডেরেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র। ফুটবল মহলে তার এক অদ্ভুত পরিচিতি রয়েছে; চলতি বিশ্বকাপে তিনি যে দলেরই সমর্থন দিয়েছেন, সেই দলই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। ইউটিউবে ৫৭ মিলিয়ন এবং টিকটকে ৫৩ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার থাকা এই ইনফ্লুয়েন্সার বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচ গ্যালারিতে বসে সরাসরি লাইভ-স্ট্রিম করছেন। এমনকি তার এই বিশেষ সম্প্রচারগুলোতে এর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং বার্সেলোনা ও এসি মিলানের সাবেক ফরোয়ার্ড ইব্রাহিমোভিচের মতো তারকাদেরও অতিথি হিসেবে দেখা গেছে। তবে কেপ ভার্দের জার্সি পরে আর্জেন্টিনার সমর্থকের সঙ্গে তার বর্ণবাদী আচরণের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে। এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, তারা স্টেডিয়ামের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং বিষয়টি নিয়ে 'অবিলম্বে তদন্ত শুরু করেছে।' ফিফা আরও স্পষ্ট করে বলেছে, ‘বিশ্বকাপ হলো মূলত ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক মিলনমেলা। এটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মানুষ, সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়কে ফুটবলের মাধ্যমে একত্রিত করে। তাই যারা বর্ণবাদের মতো নিকৃষ্ট আচরণ করে এই উৎসবের মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করতে চায়, ফুটবলের আঙিনায় তাদের কোনো স্থান নেই।’
আইশোস্পিডের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের এই অভিযোগটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যার ঠিক কয়েক দিন আগেই ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরকে ‘ঘৃণ্য’ এবং পদের অযোগ্য বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ওই সিনেটর এমবাপ্পের বংশ পরিচয়, কৃষ্ণাঙ্গ চামড়া ও শিক্ষা নিয়ে উপহাস করে একাধিক বর্ণবাদী মন্তব্য করেছিলেন। প্যারাগুয়ের লিবারেল র্যাডিক্যাল পার্টির সেই সদস্য সেলেস্তে আমারিলা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের কাছে তার দেশের পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এমন আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) সিনেটর আমারিলার মন্তব্যগুলোকে ‘অত্যন্ত জঘন্য ও অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে ফৌজদারি মামলা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।