আটলান্টা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের (৭ জুলাই) এই স্নায়ুচাপের ম্যাচে প্রথমে ইয়াসের ইব্রাহিম এবং পরবর্তীতে মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত গোলে ২-০ ব্যবধানে লিড নিয়ে আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে ফেলে মিশর। তার ওপর প্রথমার্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টিও মিস করেছিলেন মেসি। সব মিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় তখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু ম্যাচের শেষভাগে এসে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে দেন মেসি। ৭৯ মিনিটে চমৎকার এক কর্নার কিকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে দিয়ে হেডে গোল করিয়ে প্রথমে ব্যবধান কমান তিনি। এর ঠিক চার মিনিট পর হুলিয়ান আলভারেজের নিখুঁত পাস থেকে অসাধারণ এক শটে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক নিজেই। এরপর যোগ করা ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের দর্শনীয় হেডে আসে আকাশি-সাদাদের জয়সূচক গোল। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি; স্মরণীয় এই জয়কে চোখের জলে বরণ করে নেন তিনি।
মিশরের বিপক্ষে করা এই গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে মেসির অষ্টম গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে রাজত্ব করছেন। এই ম্যাচের আগে সমান ৭টি করে গোল নিয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি। তবে অ্যাসিস্টের হিসেবে এমবাপ্পে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মিশরের বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করে সব সমীকরণ একাই বদলে দিলেন মেসি। এছাড়া বিশ্বকাপে টানা নবম ম্যাচে গোল করার এক বিরল ও অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টি। পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছেন মেসি। ৩১ ম্যাচে ২১ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের (১৯ গোল) চেয়ে দুই গোলের ব্যবধান তৈরি করেছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে অধিনায়কের এই অতিমানবিক পারফরম্যান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘লিওকে যেভাবে প্রতিদিন নিজের সীমা ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে দেখি, সেটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমি তাকে বলেছি, এই জয় সম্পূর্ণ তার প্রাপ্য। তিনি আমাদের আদর্শ ও পথপ্রদর্শক।’ মেসির প্রভাব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হুলিয়ান আলভারেজ বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে লিও যা করছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলছে। আমার মতে, সে-ই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।’