আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় জিকো এ সময় পবিত্র কুরআনের বিখ্যাত আয়াত ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ পাঠ করেন, যার অর্থ—‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।’ এরপর তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, ‘রেফারি আমাদের সঙ্গে চরম অবিচার করেছেন। তিনি একটি পুরো জাতির দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্নকে বুটের তলায় পিষে ভেঙে দিয়েছেন।’ সরাসরি সম্প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে জিকো আরও দাবি করেন, ‘এই বিশ্বকাপটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে।’ তার এমন বিতর্কিত ও বিস্ফোরক মন্তব্য অন-এয়ার হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই লাইভ সাক্ষাৎকারটি বন্ধ করে দেয় সম্প্রচারকারী টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিল মিশর। প্রথমার্ধে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর চোখধাঁধানো গোলেই ২-০ ব্যবধানে লিড নেয় আফ্রিকার দলটি। তবে ৫৮ মিনিটে আরেকটি দারুণ পাল্টা আক্রমণ থেকে জিকোর দ্বিতীয় গোলটি ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিএআরের পর্যালোচনার পর বাতিল করে দেওয়া হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের সূচনা লগ্নে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ওপর ফাউল হওয়ায় রেফারি গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি-কিক দেন। এই একটি সিদ্ধান্ত নিয়েই মূলত ম্যাচজুড়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় এবং মিশর শিবির তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে।
পরবর্তীতে ৬৭ মিনিটে আবার গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। কিন্তু ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং যোগ করা ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানের জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তের এই জয়সূচক গোলটির আগেও বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয় আরেকটি ঘটনা। মিশরের খেলোয়াড়দের দাবি ছিল, নিজেদের পেনাল্টি এলাকায় আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের স্পষ্ট ফাউল উপেক্ষা করে খেলা চালিয়ে যেতে দেন ফরাসি রেফারি। আর সেই বিতর্কিত আক্রমণ থেকেই ম্যাচের জয়সূচক গোলটি পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। যদিও মাঠের রেফারি কিংবা ভিএআর কক্ষ—কেউই মিশরের এই ফাউলের আবেদন আমলে নেয়নি। ম্যাচ শেষে জিকোর এই আধ্যাত্মিক ও ক্ষুব্ধ মন্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।