ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার হামলা: ধ্বংসস্তূপে রূপ নিল হরমুজ প্রণালি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:৫৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও ভয়াবহ সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার মধ্যরাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিস্তীর্ণ উপকূল এবং হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে এই বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই হামলার খবরটি নিশ্চিত করেছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর এই তীব্র বোমাবর্ষণে দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রধান সমুদ্রবন্দর—বন্দর আব্বাস, কোনারক এবং চাবাহার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বন্দর আব্বাস হলো ইরানের বৃহত্তম ও প্রধান বাণিজ্যিক সমুদ্রবন্দর। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের জলসীমায় মোতায়েন থাকা ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রায় সব কটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিক্ষিপ্ত বোমার আঘাতে চাবাহার বন্দর ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় স্বাভাবিক করতে ভোররাত থেকে সেখানে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে।

সমুদ্রবন্দরগুলোর পাশাপাশি দক্ষিণ ইরানের ইরানশাহর শহরের একটি সচল বিমানবন্দর এবং উত্তর ইরানের আক্কালা শহরের একটি কৌশলগত রেলসেতুতেও নিখুঁত আঘাত হেনেছে সেন্টকোম। বিমানবন্দরে মার্কিন বাহিনীর ফেলা বোমায় ইরানশাহর বিমানবন্দরের একজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী নিহত হয়েছেন বলে মেহের নিউজ জানিয়েছে।

মূলত, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভেঙে গত ৫ জুলাই শনিবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরানের আইআরজিসি। এর জবাবে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ইরান এবং হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রথম দফায় ইরানের ৮০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করেছিল সেন্টকোম। মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দিতে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আইআরজিসি। এই পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝেই গতকাল বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ এবং এই মুহূর্তে দেশটির সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের এই অনমনীয় ঘোষণার পরপরই বুধবার মধ্যরাতে দ্বিতীয় দফায় ইরানে সর্বাত্মক হামলা চালায় সেন্টকোম।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকোম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে এই অতিরিক্ত হামলা চালানো হয়েছে। সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের অন্যায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবারের হামলার তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কড়া ভাষায় লিখেছেন, "হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আগ্রাসনের উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে। ইরান যদি আবারও কোনো দুঃসাহস দেখায়, তবে পরবর্তী হামলা হবে আরও বেশি ভয়াবহ।"


এ সম্পর্কিত আরো খবর