ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জন্মভূমি মাশহাদে আজ সমাহিত হবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:৫৯ এএম

এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন আবহের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হতে যাচ্ছেন ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি আকস্মিক যৌথ সামরিক হামলায় প্রাণ হারান ইরানের এই প্রভাবশালী শীর্ষ ধর্মীয় নেতা। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর আজ তাঁর নিজ জন্মভূমি মাশহাদ শহরে তাঁকে সমাহিত করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইরান সরকার।

এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে খামেনির মরদেহ প্রথমে ইরাকের ঐতিহাসিক ও পবিত্র নগরী কারবালায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে ইতিমধ্যে তাঁর নিথর দেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার জন্য তাঁর মরদেহ বর্তমানে মাশহাদের ঐতিহ্যবাহী ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে এনে রাখা হয়েছে, যেখানে লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্মস্থান এই মাশহাদ শহরটি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসতিপূর্ণ এই শহরটিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শিয়া মুসলিমরা অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য করেন। শিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান ১২ জন ইমামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম রেজা, যাঁর পবিত্র মাজার এই মাশহাদ শহরেই অবস্থিত। শিয়াদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র উত্তরসূরিদের মধ্যে ইমাম রেজা ছিলেন অন্যতম।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, নবম শতকে ইমাম রেজাকে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে এই মাশহাদেই তাঁকে দাফন করা হয়। এবার সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকেও সেই একই পবিত্র ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সের ভেতরে কবর দেওয়া হবে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, খামেনিকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে চূড়ান্ত সম্মান ও স্বীকৃতি দিতেই দেশের সবচেয়ে পবিত্রতম এই স্থানে তাঁকে দাফন করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইরান প্রশাসন।

কাকতালীয়ভাবে, আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবার জন্মও হয়েছিল এই মাশহাদ শহরেই। শুধু খামেনি পরিবারই নয়, ইরানের সাবেক জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জন্মভূমিও ছিল শিয়াদের এই পবিত্র নগরী। ২০২৪ সালে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইব্রাহিম রাইসি নিহত হওয়ার পর, তাঁর মরদেহও এই ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সেই সমাহিত করা হয়েছিল। এক সময় ধারণা করা হতো, রাইসিই হবেন ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার, কিন্তু সেই আকস্মিক আকাশ দুর্ঘটনা ইরানের রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দেয়। আজ সেই একই পবিত্র চত্বরে তাঁর পাশে সমাহিত হতে যাচ্ছেন খামেনি। তাঁর এই শেষ বিদায়ে পুরো ইরান জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর