ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বায়নাপত্রের শর্ত ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৫:৫৬ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় বায়নাপত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে জমি দখল ও নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগ উঠেছে। জমির সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ এবং রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না করেই অনিবন্ধিত বায়নাপত্রের সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক। এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগকারী মো. জবেদ আলী সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা এবং সুলতান বড় বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তার দাবি, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কয়েকজন ব্যক্তি জমির দখল নিয়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর মৌজায় মো. জবেদ আলীর ১৪৭ শতক জমি রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি প্লট আকারে বিক্রি করে আসছেন। এ জমির একটি প্লট কেনার জন্য পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার আব্দুল শাহীন চুক্তিবদ্ধ হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৯ লাখ টাকা মূল্যের ওই প্লটের বিপরীতে আব্দুল শাহীন ৩ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। পরে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অনিবন্ধিত বায়নাপত্র সম্পাদন করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে সাফ-কবালা দলিল রেজিস্ট্রি করার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও তিনি বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কোনো ধরনের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না করেই ওই জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন।

একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ করেছেন জবেদ আলী। তিনি জানান, একই মৌজার আরও একটি ৩ শতকের প্লট কেনার জন্য পুরাতন সাতক্ষীরার ভাঙাড়িপাড়া এলাকার আব্দুল হক চুক্তিবদ্ধ হন।

অভিযোগে বলা হয়, ১০ লাখ টাকা মূল্যের ওই জমির বিপরীতে গত বছরের ১২ মে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে বায়নাপত্র সম্পাদন করা হয়। শর্ত অনুযায়ী, গত বছরের ১১ নভেম্বরের মধ্যে বাকি ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। বরং বাকি টাকা পরিশোধ ছাড়াই জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন জবেদ আলী।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ব্যবসায়িক কাজে তিনি কিছুদিন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তার এই অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো বৈধ অনুমোদন বা নকশা ছাড়াই জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন।

ঢাকা থেকে ফিরে তিনি নির্মাণকাজে বাধা দিলে তাকে এবং তার পরিবারকে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন।

মো. জবেদ আলী বলেন, ১০০ টাকার সাধারণ নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত একটি অনিবন্ধিত বায়নাপত্র কোনোভাবেই জমির মালিকানা বা স্থাপনা নির্মাণের অধিকার প্রদান করে না। চুক্তির শর্ত পূরণ না করে এবং জমির রেজিস্ট্রি ছাড়া জোরপূর্বক দখল ও নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বেআইনি।

এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর