ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর দাফনকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দাফনের মধ্য দিয়ে টানা ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
সকাল থেকেই মাশহাদের বিভিন্ন সড়কে মানুষের ঢল নামে। অনেককে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে শোকমিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় কিছু মানুষের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ডও দেখা গেছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকেই দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং বিভিন্ন শহরে শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিকে দাফন অনুষ্ঠানের দিন মাশহাদ ও রাজধানী তেহরানের মধ্যে রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় গুরুত্বপূর্ণ রেলপথটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার ফলে দুটি সেতু ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তেহরান ও মাশহাদের মধ্যকার রেলপথটি ইরানের অন্যতম ব্যস্ত রুট হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই পথে যাতায়াত করেন। রেলপথে বিঘ্ন ঘটায় দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা বহু মানুষের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরাক থেকে মরদেহ মাশহাদে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় জানাজা ও শোকমিছিলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। আগে সকাল ৮টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়।
জানা গেছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে দাফন করা হবে। এর আগে তার মরদেহ ইরাকের নাজাফে ইমাম আলী (আ.)-এর মাজারে নেওয়া হলে সেখানে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল বলে জানানো হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। পরে যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দুই দিনে দেশটির পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন।