ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

রিয়ালে চাপ, ফ্রান্সে স্বাধীনতা—এমবাপ্পের দুই রূপের রহস্য


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৬:৩৪ পিএম

ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম এখন প্রায় এক অনন্য উচ্চতায়। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই তিনটি বিশ্বকাপ খেলে দুটি ফাইনালে ওঠা, একটি শিরোপা জয় এবং বিশ্বকাপে ১৯ গোল—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন বড় মঞ্চে তিনি ফ্রান্সের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তারকাদের একজন। চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ধরে রেখে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

তবে জাতীয় দলের জার্সিতে অসাধারণ সাফল্যের বিপরীতে ক্লাব ফুটবলে, বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে, এমবাপ্পেকে নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। একই খেলোয়াড়ের এমন দুই ভিন্ন চিত্র ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে এমবাপ্পে শুধু অধিনায়ক নন, পুরো দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসাও। মাঠে আক্রমণের পরিকল্পনা, কৌশল এবং নেতৃত্ব—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। দলের খেলোয়াড়রাও তার গতি, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজান। ফলে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্বস্তি—সবই পান এমবাপ্পে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুনে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাকে সামলাতে হচ্ছে বিশাল প্রত্যাশার চাপ। ক্লাবটির ঐতিহ্য, সমর্থকদের উচ্চ প্রত্যাশা এবং প্রতিটি মৌসুমে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য—সব মিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই তাকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। সাম্প্রতিক ট্রফিহীন মৌসুম এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায়ও অনেক সমর্থক তার ওপর চাপিয়েছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে দল ছাড়ার দাবিও তুলেছেন একাংশ সমর্থক।

স্পেনভিত্তিক রয়টার্সের ক্রীড়া সাংবাদিক ফার্নান্দো কালাসের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারণ পরিসংখ্যান নয়, বরং মানসিকতা ও পরিবেশ। তাঁর ভাষ্য, সংখ্যার বিচারে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপ্পের মৌসুম মোটেও খারাপ ছিল না। কিন্তু ফ্রান্সের জার্সিতে তিনি যে আত্মত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও নিবেদন দেখান, ক্লাব ফুটবলে তা সবসময় সমানভাবে চোখে পড়ে না। অনেক সমর্থকের ধারণা, কিছু ক্ষেত্রে তিনি দলের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের দিকেই বেশি মনোযোগী।

তবে পরিসংখ্যান ভিন্ন গল্প বলে। গোল, অ্যাসিস্ট, সফল ড্রিবল, গতি, স্প্রিন্ট কিংবা প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স প্রায় সমমানের। অর্থাৎ কেবল সংখ্যার ভিত্তিতে তার পারফরম্যান্সে বড় কোনো ব্যবধান খুঁজে পাওয়া কঠিন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত পার্থক্য তৈরি করে পরিবেশ, দায়িত্বের ধরন এবং মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য। জাতীয় দলে এমবাপ্পে নিজেকে অনেক বেশি স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন এবং সতীর্থদের পূর্ণ সমর্থনও পান। সেই আত্মবিশ্বাসই তাকে আরও কার্যকর ও ভয়ংকর ফুটবলার হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদে প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং শিরোপার চাপ তাকে সবসময় কঠিন পরীক্ষার মধ্যে রাখে। ফলে একই খেলোয়াড় হলেও দুই দলের জার্সিতে তার উপস্থিতি ও প্রভাবের মধ্যে দৃশ্যমান পার্থক্য তৈরি হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর