ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জামায়াত কর্মী শহিদুল হত্যা মামলা:

সাবেক এমপি সেঁজুতি এবার নতুন মামলায় গ্রেফতার


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৬:২৬ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের সহায়তায় সংঘটিত হওয়া দীর্ঘ ১১ বছর আগের একটি চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড মামলায় নতুন করে আইনি বেড়াজালে জড়িয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি। পূর্ববর্তী দুটি পৃথক ফৌজদারি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পরপরই সোমবার (১৩ জুলাই) তাকে ২০১৫ সালের এক জামায়াত কর্মী হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নতুন করে শোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জিআর ৩৯৯/২৪ নম্বর মামলায় আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। তবে গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁকে পুনরায় দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ এবং ৩৪ ধারায় রুজু হওয়া জিআর ৪০২/২৪ নম্বর মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরবর্তীতে গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত সেই মামলাটিতেও তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু সেই আইনি স্বস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সোমবার সাতক্ষীরা সদর থানার মামলা নম্বর ১৪ (তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪; জিআর নম্বর ৪০৩/২৪) মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হলো।

নথি অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই নতুন হত্যা মামলার বাদী হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত নূর আলী সানার ছেলে মো. ইমদাদুল হক। তিনি সাতক্ষীরার তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ মোট ৩২ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে গত ২৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সাতক্ষীরার ১ নম্বর আমলী আদালতে এই নালিশী মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগটি নিয়মিত এজাহার বা এফআইআরভুক্ত করা হয়।

মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন যে, তাঁর সহোদর ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। মামলার ১ থেকে ৬ নম্বর আসামী তৎকালীন সময়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং অন্যান্য আসামিরা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল। এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে এজাহারনামীয় ৩২ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা ৩টি কালো রঙের মাইক্রোবাস যোগে ভিকটিম শহিদুল ইসলামের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা শহিদুলকে জোরপূর্বক টানা-হেঁচড়া করে তুলে নিয়ে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর থানায় আবদ্ধ রাখে। পরবর্তীতে গভীর রাতে থানা থেকে তাকে যশোর পিকনিক কর্নারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১ ও ২ নম্বর আসামির সরাসরি নির্দেশে ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামী ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে ব্রাশফায়ার করে। বুকে, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা করে শহিদুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর লাশটি পিকনিক কর্নারের সামনের একটি নির্জন ফাঁকা স্থানে ফেলে রেখে আসামিরা চলে যায়। বাদী এজাহারে আরও জানান, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিতে থানায় একটি অপমৃত্যু বা ইউডি মামলা দায়ের করে পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবার হত্যা মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বাদীকে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের সাথে আলোচনা করে মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।



এ সম্পর্কিত আরো খবর