ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:১৮ পিএম

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার এবং দেশের শীর্ষ ১০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দেশে ও বিদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। এই অর্থ ও সম্পদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ তথা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত বিএফআইইউয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন সাংবাদিকদের সামনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, সাবেক সরকারপ্রধান ও প্রভাবশালী ১০টি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মালিকানাধীন অবরুদ্ধ হওয়া এই বিশাল সম্পদের মধ্যে ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে দেশের অভ্যন্তরে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি চিহ্নিত করে তা বিদেশে জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সুনির্দিষ্টভাবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কত টাকার সম্পদ আটক করা হয়েছে, সেই হিসাব বা তালিকা এখনই আলাদাভাবে প্রকাশ করতে রাজি হননি আর্থিক গোয়েন্দা প্রধান।

বিএফআইইউ প্রধান দৃঢ়তার সাথে বলেন, "দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ পাচার বা চুরি হয়ে গেছে, তা আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি এবং আশা প্রকাশ করছি যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ পাচার হওয়া এই সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে জাতিকে একটি ইতিবাচক সুখবর দিতে পারব।"

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাবেক সরকারপ্রধান, তাঁর পরিবারবর্গ এবং প্রভাবশালী ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, আর্থিক জালিয়াতি, শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু হয়।

বর্তমানে এই আর্থিক অপরাধগুলোর অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর এসব রাষ্ট্রীয় সংস্থার সাথে সমন্বয়কের মূল ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএফআইইউ প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে আমাদের কাজের সম্পর্ক নেই। আমরা কোনো দল, মত বা ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের দিকে না তাকিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করি। ব্যাংকিং চ্যানেলে যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত হলেই আমরা আইন অনুযায়ী হিসাব অবরুদ্ধ করি। এই ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটির রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য নয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রেও যদি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী তাও প্রকাশ্যে আনা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর