ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জ্বলছে হরমুজ, অবরুদ্ধ জ্বালানি সরবরাহ

উপসাগরীয় মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা আঘাত


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১২:২৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন শুধু বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের বীভৎস দামামা। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সমস্ত হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এখন এক অনিয়ন্ত্রিত ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতেও ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিধ্বংসী আক্রমণ চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ নিয়ে টানা সাত রাত আমেরিকার বোমাবর্ষণে কেঁপে উঠল পারস্য উপসাগরের এই দেশটি। তবে এবার আর শুধু নিজেদের সীমানায় রক্ষণাত্মক থাকেনি তেহরান; মার্কিন আগ্রাসনের চরম জবাব দিতে ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর ওপর একযোগে স্মরণকালের ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হেনেছে তারা। দুবাই ও কায়রো থেকে পাওয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির রুদ্ধশ্বাস চিত্র উঠে এসেছে।

দুই পরাশক্তির এই রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারের লাইফলাইন খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন করে এই সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াতে প্রণালির কাছেই একটি বাণিজ্যিক জ্বালানিবাহী ট্যাংকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন মার্কিন মেরিন সেনারা। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজের দক্ষিণাংশের মাইন পাতা সমুদ্রপথ ধরে জোরপূর্বক চলাচলের চেষ্টা করার সময় দুটি বিশাল ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলোতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তবে মার্কিন সামরিক কমান্ড এই প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া ও ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু সমুদ্রপথই নয়, লোহিত সাগরের সংকীর্ণ পথ ‘বাব আল–মান্দেব’ দিয়েও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ ইয়েমেন উপকূলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা আরেকটি মিত্রেণীয় বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক সরাসরি সম্প্রচারে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পৈশাচিক আগ্রাসন ও বোমাবর্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে কোনো রাসায়নিক সার, এমনকি এক ফোঁটা তেল ও গ্যাসও বিশ্ববাজারে রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।’ আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় আন্তর্জাতিক নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে অন্তত চারটি বিদেশি জাহাজ মাঝসমুদ্রেই রুখে দিয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধের জন্য অতীতে সই হওয়া শান্তি সমঝোতা ও চুক্তি ভেঙে গত সপ্তাহ থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান যেভাবে সর্বাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, তা বিশ্ববাসীকে এক পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিশেষ উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গর্জে উঠে বলেন, “যদি মার্কিন হামলা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকে, তবে আমরা আর কেবল পাল্টা জবাব দেব না, বরং সরাসরি পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের পর্যায়ে প্রবেশ করব।”

এদিকে, যুদ্ধক্ষেত্র এখন ইরানের সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাহরাইন, কাতার, কুয়েতসহ যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন বিমানঘাঁটি ও লজিস্টিক হাব রয়েছে, সেখানে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দেশের একটি প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ইরানের ড্রোন হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যার জবাবে কুয়েতের সামরিক বাহিনী পাল্টা গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে, আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ড্রোনের একটি প্রধান মজুতাগার গুঁড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের যৌথ সহায়তায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশে অবস্থানরত একটি মার্কিন রণতরীতেও সফল আঘাত হানার দাবি করেছে তেহরান।

এর আগে, শনিবার দিনের শুরুতে ইরানের হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় ৩ জন নিহত ও ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যেখানে দুটি কৌশলগত সেতু ও একটি সড়ক টানেল ধসে পড়েছে। শুক্রবারের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বন্দর খামিরের রেললাইন এবং পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা ইরানশাহর প্রদেশের একটি সক্রিয় বিমানবন্দর মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই পক্ষের এমন অনড় ও ধ্বংসাত্মক অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনন্ত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর