হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও এক মাস আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের ওপর টানা নবম রাতের মতো জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তৃতীয় এক সেনাসদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর সোমবার (২০ জুলাই) এই বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ইরানের বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক এই বিমান হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোগুলোকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তাদের দুর্বল করাই ছিল এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এবং ইমাম খোমেনি বন্দরনগরীতে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় হরমোজগান প্রদেশের কৌশলগত সিরিক ও জাস্ক শহরের আশপাশের এলাকা এবং বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ শহরের কাছেও উপর্যুপরি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
আইআরআইবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর তাবরিজের কাছে অন্তত তিনটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশের কোনারাক ও চাবাহার শহরে আকস্মিক হামলার মুখে ইরানের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে দুই দেশের এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও উত্তপ্ত করে তুলেছে।