ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

নতুন করে ইরানের একাধিক সামরিক ও যোগাযোগ স্থাপনায় হামলা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:০৩ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রতিরোধ ও আক্রমণের সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে আবারও ব্যাপক মাত্রায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টানা দশম রাতের মতো পরিচালিত এই বিশেষ হামলায় ইরানের প্রধান প্রধান সামরিক অবকাঠামো, রাডার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের নিহতের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম প্রতিশোধমূলক হুঁশিয়ারির পরপরই তেহরানের ভূখণ্ডে এই জোরালো বিমান হামলা চালানো হলো।

সংঘাতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনহানির জন্য তেহরানকে চরম ও 'বহুগুণ বেশি মূল্য' চোকাতে হবে। তিনি এর আগে নিশ্চিত করেন, নিহত তিন মার্কিন সেনার প্রতি সম্মান জানাতে এবং তাদের মৃত্যুর জাবাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত যোগাযোগ স্থাপনাসমূহে 'অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী' হামলা পরিচালনা করেছে মার্কিন বিমানবাহিনী। উল্লেখ্য, ওই তিন মার্কিন সেনাসদস্যের মধ্যে দুইজন জর্ডান সীমান্ত এলাকায় এবং অপরজন ইরাকের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারান।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বিমান হামলার পর ইরানও নীরব থাকেনি। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বলয় রক্ষায় পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দেশটি। তেহরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী বাহরাইন, জর্ডান এবং সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হেনেছে। উদ্ভূত চরম সংকটাপন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তার দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অনিচ্ছাকৃত অথচ 'পূর্ণাঙ্গ প্রত্যক্ষ যুদ্ধে' লিপ্ত রয়েছে।

তবে রণক্ষেত্রে চরম সামরিক সংঘাত ও গোলাগুলি চললেও পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগের পথটি এখনও পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যায়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, পূর্বে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির চুক্তিগুলো ভেঙে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রয়োজনীয় গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বিশ্বের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মাঝে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যরাতে আকাশপথে ধেয়ে আসা অন্তত তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। ওই ঘটনার পরপরই জর্ডানের প্রধান প্রধান নাগরিক এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ জনগণকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হয়। ঠিক একই সময়ে কুয়েতের সামরিক বাহিনীও দাবি করেছে যে, তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের ভূখণ্ড ও সীমানা লক্ষ্য করে ছোড়া বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এছাড়া আঞ্চলিক অক্ষশক্তি বাহরাইন এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি বিশেষ ড্রোন তাদের আকাশপথের প্রধান নেভিগেশন ও রাডার তথ্য ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। তবে আগাম সতর্কতার কারণে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচলে এর কোনো প্রভাব পড়েনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি প্রচারমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটনের এই সাম্প্রতিকতম আকাশ হামলায় রাজধানী ছাড়া দেশটির অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক ও সামরিক শহরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ইমাম খোমেনিসহ বেশ কয়েকটি উপকূলীয় শহর লক্ষ্য করে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো অবিরাম বোমাবর্ষণ করেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করে ইরানের স্থানীয় রাষ্ট্রীয় মাধ্যম দাবি করেছে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার মুহূর্তে দুটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে আকস্মিক ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আক্রান্ত ওই ট্যাংকার দুটি হরমুজ প্রণালীর এক অত্যন্ত 'অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ দক্ষিণ রুট' ব্যবহার করছিল। বিস্ফোরণের পরপরই ট্যাংকার দুটির ইঞ্জিন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায় এবং সমুদ্রের মাঝপথে স্থবির হয়ে পড়ে।

তবে ইরানি বাহিনীর এই দাবির বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওয়াশিংটন এই দাবিকে তেহরানের তৈরি করা অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেছে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এই জলসীমায় যুদ্ধপ্রস্তুতি ও মুখোমুখি সংঘাত পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক গভীর সংকটের বার্তা বহন করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর