ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে অভূতপূর্ব আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিনেটের শুনানিতে অংশ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে পেন্টাগনের এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মে মাসের পর থেকে এই ব্যয়ের পরিমাণ এক লাফে আরও ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযান সচল রাখতে কংগ্রেসে আরও ৮৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন জানানো হলে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েন পেন্টাগন প্রধান।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির বিশেষ শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন যে, কাঙ্ক্ষিত বাজেট দ্রুত পাস না হলে সেনাসদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নিয়মিত বেতন প্রদান এবং গোলাবারুদ সরবরাহ গুরুতর ঘাটতির মুখোমুখি হতে পারে। তিনি জানান, চাওয়া অতিরিক্ত অর্থের মধ্যে অন্তত ৬৭ বিলিয়ন ডলার মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে। তবে শুনানিসভাটি মোটেও শান্তিপূর্ণ ছিল না। যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকারীরা বারবার স্লোগান দিয়ে শুনানিতে বিঘ্ন ঘটান এবং মধ্যপ্রাচ্যে বোমা হামলা বন্ধের জোরালো দাবি জানান।
সিনেটরদের প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বর্তমান সামরিক সংকটের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাবেক প্রশাসনকে দায়ী করেন। তবে কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মারে ও সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড হেগসেথের এই বড় আকারের বাজেটের তীব্র বিরোধিতা করেন। গিলিব্র্যান্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে সাধারণ আমেরিকানরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসন এক জয়ী যুদ্ধের দোহাই দিয়ে কঙ্গ্রেসের কাছে বোমাবর্ষণের জন্য সীমাহীন অর্থের আবদার জানাচ্ছে। সূত্রমতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণের খরচ যুক্ত না করায় যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় আরও বহুগুণ বেশি হতে পারে।
এদিকে টানা একাদশ দিনের মতো উভয়পক্ষের হামলা ও পাল্টাহামলার খবর পাওয়া গেছে। হেগসেথ পেন্টাগনের বিপুল এই চাওয়াকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর 'প্রাণঘাতী সক্ষমতা' বৃদ্ধি এবং শক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে এক 'প্রজন্মগত বিনিয়োগ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য ইতিমধ্যেই পেন্টাগনের মোট বাজেট চাওয়া হয়েছে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আধুনিক ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তুমুল তর্কবিতর্ক ও ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্য দিয়েই পেন্টাগন প্রধানের রোমাঞ্চকর এই শুনানি শেষ হয়।