মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের এমন এক বিপজ্জনক চক্রে আটকা পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ইরাক ও জর্ডানে সেনা নিহতের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অবিরত বিমান হামলা এবং এর বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাল্টা আক্রমণ ও বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানার কারণে পুরো অঞ্চল চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
পেন্টাগনের আরব উপদ্বীপ সংক্রান্ত সাবেক পরিচালক ডেভিড ডি রোচেস এই চলমান পরিস্থিতিকে 'উত্তেজনা ও ঝুঁকির যান্ত্রিক চক্র' বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্লেষণ করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই একে অপরকে পিছু হটতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে নিজেদের আক্রমণের পরিধি ও লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ক্রমাগত প্রসারিত করে চলেছে। কেবল বিমান শক্তির ওপর অতিরিক্ত ভরসা করার কারণেই সংঘাতের এই চক্র তৈরি হয়েছে।
ডি রোচেস জানান, বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো বড় সামরিক লক্ষ্য দ্রুত হাসিল করা সম্ভব হয় না, যদি না যুদ্ধটি কোনো বৃহৎ রাষ্ট্রের সাথে অতি ক্ষুদ্র কোনো রাষ্ট্রের হয়। ফলে সময়ের সাথে সাথে অভিযানের মেয়াদ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি আক্রমণের অঞ্চল ও নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও দীর্ঘতর হচ্ছে। বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইরানের ওপর উপর্যুপরি আঘাত হেনে তাদের নিজেদের শর্তে আলোচনায় বসাতে। পক্ষান্তরে তেহরান চেষ্টা করছে মার্কিন বাহিনী ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করে আমেরিকার ওপর মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করতে।
চলমান যুদ্ধে পেন্টাগনের ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের যে দাবি মার্কিন প্রশাসন করেছে, সেটিকে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন ডি রোচেস। তাঁর মতে, শান্তিকালীন সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের স্বাভাবিক দৈনিক খরচ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর পুনর্নির্মাণ খরচ এবং ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্রের প্রতিস্থাপন ব্যয় যুক্ত করা হলে এই যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ঘোষিত হিসাবের অন্তত চারগুণ বেশি হবে।