মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাবে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবারের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজার সূচক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ বা অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ০৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ দর। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত পুনরারম্ভ হওয়ার পর মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে তেহরান। ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় তাদের নির্দেশিকা না মানায় দুটি জ্বালানিবাহী তেল ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়ে সেগুলোর চলাচল সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগত সুবিধা হাসিল ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়ে আসছে ইরান। ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর পূর্বে বিশ্বের সার্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।