ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তিতে অনুমোদন ট্রাম্পের


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:৩০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। চুক্তিটি কার্যকর হলে আগামী ৩০ বছর ধরে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও কারিগরি সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক হাজার কোটি ডলার পরিশোধ করবে।

চুক্তি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শিগগিরই এর খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এবং সিনেটে অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হবে। খসড়ার সঙ্গে ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত একটি নথিও পাঠানো হবে, যা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সহযোগিতার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে।

এই চুক্তি কার্যকর হলে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু শক্তি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তবে চুক্তির কয়েকটি দিক নিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এতে প্রচলিত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে সৌদি আরব চাইলে এই চুক্তির আওতায় থেকেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

এ ছাড়া চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’-ও রাখা হয়নি। সাধারণত এই প্রটোকলের আওতায় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক অ্যানার্জি অথরিটি (আইএইএ) যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট দেশের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পায়। কিন্তু এই চুক্তিতে নিরাপত্তা ও তদারকির বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে চুক্তিটি অনুমোদিত হলে সৌদি আরবের জন্য ইউরেনিয়াম সংগ্রহ ও সমৃদ্ধকরণের পথ আরও সহজ হবে। যদিও এটি বেসামরিক কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত, তবুও পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একাধিকবার বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বেসামরিক পরমাণু চুল্লির জন্য আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে থাকে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।

চুক্তিটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। সেখানে অনুমোদন মিললে এটি দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর